রংপুরের পীরগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অজুহাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যোগসাজশে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া ওই টাকার অর্ধেকই কেটে নিচ্ছেন।
গত রবিবার উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের সময় জনপ্রতি ২২০ টাকা করে কেটে নিতে থাকলে প্রতিবাদ জানায় সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। একপর্যায়ে তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা টাকা বিতরণকারী শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ চলাকালে কান্দি ক্লাষ্টারের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধরা তাকে লাঞ্ছিত করে মারধর করতে উদ্যত হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অবরুদ্ধ শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা অফিসার পালিয়ে রক্ষা পান। এদিকে এ ঘটনার তদন্তে গতকাল সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে। তারা জানায়, আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
গত রবিবার রূপালী ব্যাংক অন্নদানগর শাখার অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সিকিউরিটি গার্ড আনসার সদস্য মশিয়ার রহমান ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের জন্য কান্দি ইউনিয়নের দাদন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। তারা সুবিধাভোগীদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় জনপ্রতি ৬শ’ টাকার পরিবর্তে ৩৮০ টাকা করে বিতরণ করতে থাকেন। এভাবে তারা ৫টি বিদ্যালয়ের সুবিধাভোগী প্রায় ৭শ’ শিক্ষার্থীর নিকট থেকে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা উপবৃত্তির টাকা এভাবে কেটে নিতে থাকলে প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তারা তাদের পাওনা জনপ্রতি ৬শ’ টাকা করে প্রদানের দাবিতে পশ্চিম দাদন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব রাজা, সহকারী শিক্ষক নূর মোহাম্মদ, রূপালী ব্যাংক প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম ও মশিয়ার রহমানকে বিদ্যালয় কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্কুল মাঠে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধরা ওই কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন।
অভিভাবকরা বলেন, টাকা বিতরণের সময় সহকারী শিক্ষা অফিসারদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কখনই উপস্থিত থাকেন না। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নামে বরাদ্দ দেয়া ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার মধ্য থেকে কেটে নেয়া প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা ভাগ-বাটোয়ারার জন্য গত কয়েকদিন আগে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গোপন বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট অংকের ‘সম্মানী’ নির্ধারণ করা হয়।
এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হরিশংকর বাবু জানান, তিনি গোপন বৈঠকের বিষয়ে জানেন না। কান্দির ঘটনার কথা শুনেছেন। বিষয়টি দেখবেন। রূপালী ব্যাংক অন্নদানগর শাখা, পীরগাছা-এর ম্যানেজার সেলফোনে জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
