পঙ্গু শ্রমিকদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করবে ভারত-থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ দল

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২৩:০২
সাভারের রানা প্লাজা ধসে পঙ্গু শ্রমিকদের বিনামূল্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করবে থাইল্যান্ড ও ভারতের একটি বিশেষজ্ঞ দল। এ ছাড়া রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ইতিমধ্যে আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিকের শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থাইল্যান্ড সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চিকিত্সা সেবা দেয়ার প্রস্তাব দেন। ভারত সরকারও একই প্রস্তাব দেয়। এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দল আগামী ২৭ জুলাই থেকে ১ আগস্ট বাংলাদেশে এসে প্রাথমিকভাবে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ দলটি একশ রোগীর পা প্রতিস্থাপনে পঙ্গু হাসপাতালে অবস্থান করবে। সাথে করে নিয়ে আসবে ভ্রাম্যমাণ একটি কারখানা। এর ফলে এখানেই কৃত্রিম পা তৈরি করে শ্রমিকদের শরীরে তা প্রতিস্থাপন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় যারা পা হারিয়েছেন এবং যারা অর্থাভাবে চিকিত্সা নিতে পারেননি তারা ১৮ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পঙ্গু হাসপাতালে পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল। আহতদের চিকিত্সায় সেনাবাহিনীর ৯টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল। আহতদের চিকিত্সায় সাভার সিএমএইচ, ঢাকার সিএমএইচ, পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কিডনি হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, হূদরোগ হাসপাতালসহ রাজধানীর প্রায় সবকয়টি হাসপাতাল সার্বক্ষণিক চিকিত্সা দেয়। সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ও অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিত্সা সেবা দেয়ার জন্য মন্ত্রী ওই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। রুহুল হক বলেন, আহতদের চিকিত্সাসেবা ও নিহতদের লাশ পৌঁছে দেয়া এবং দাফন করার সার্বক্ষণিক কার্যক্রম মনিটরিং করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাত্ক্ষণিক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা গুরুতর আহত ৭৫০ জনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেন। পঙ্গুত্ব বরণকারী ৩৬ জন রোগীর প্রত্যেককে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ২৪ জনকে পারিবারিক সরঞ্চয়পত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১২ জনের হাতে খুব শিগগিরই এগুলো তুলে দেয়া হবে। একই সাথে রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ৭৫০ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী দুই থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। অশনাক্ত মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য খরচ বাবদ প্রধানমন্ত্রী নিজ ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেছেন। রানা প্লাজার হতাহতদের চিকিত্সাসেবার পাশাপাশি ও পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্ত্রী জানান।