আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচন কমিশনে রনি যে সম্পদের হিসাব দিয়েছেন তার চেয়ে রনির সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি বলে দুদকের অনুসন্ধান টিম তথ্য পেয়েছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে শিগগিরই কমিশনের কাছে মামলার সুপারিশ চাইবে অনুসন্ধান টিম। কমিশন অনুমতি দিলেই দুদকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলে দুদকের অনুসন্ধান টিম সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে দুদকের উপ-পরিচালক তালেবুর রহমান বলেছেন, দুদকের অনুসন্ধান প্রায় শেষ। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই প্রতিবেদনটি কমিশনে জমা দেয়া হবে।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলও থেকে পাওয়া আয়কর ফাইল ও সম্পদ বিবরণীতে কিছু গড়মিল পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের কিছু রেকর্ডপত্রও দুদকের হাতে আসে। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এমপি রনি আয়কর রিটার্নে তার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে নয় কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ করেছেন। বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। এতে তার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকিরও অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
এছাড়া রনির মালিকানাধীন সেবোল্ট গার্মেন্ট লিমিটেডে ২০০৬-০৭ সালে আয়কর রিটার্নে নয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা উল্লেখ করলেও মেসার্স সেবোল্ট এক্সপ্রেস, মেসার্স সেবোল্ট অ্যাডজাস্টস, নেট অ্যাকসেস, নন্দিতা এন্টারপ্রাইজ, ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং নামক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন তা উল্লেখ করেন নি। এর বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার প্লট, ফ্ল্যাট এবং অভিজাত গাড়ির তথ্যও পেয়েছে দুদক। যার বৈধ আয়ের উত্স দুদক অনুসন্ধানে পায়নি।
