চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রায় ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ কেজি চোরাই স্বর্ণের বার এবং ৪০০ গ্রাম চোরাই স্বর্ণালংকারসহ দুবাই থেকে আসা এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসমস্ত স্বর্ণ ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে গ্রেফতারকৃত যুবক ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। সকাল ৯টায় যুবকটি যে ফ্লাইটে চট্টগ্রাম এসেছে সেটি ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা সকাল ১০টায়।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন জানান, আটককৃত যুবকের নাম মীর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ। তার পিতার নাম মীর মোহাম্মদ মুসা। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খরণদ্বীপ গ্রামে। তার কাছে থাকা লাগেজ তল্লাশি করে সেখানে একটি বেল্টের মতো আচ্ছাদনের ভেতর থেকে দশ তোলা ওজনবিশিষ্ট ১৪৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। আটককৃত যুবক মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে গতকাল সোমবার ওমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে মাসকাট যায়। সেখানে বাংলাদেশের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে মাসকাট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। ফ্লাইটটি সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা চট্টগ্রামের যাত্রীরা নেমে গেলেও শাহনেওয়াজ ঢাকার যাত্রী হিসেবে বিমানটিতে অবস্থান করেন। বিমানের পাইলট এবং ক্রুরা নিয়মিত চেকিংয়ের সময় শাহনেওয়াজকে তার লাগেজে থাকা একটি পুঁটলিতে কি আছে জিজ্ঞাসা করলে সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। বিমানের ক্রুরা এ সময় বিমানবন্দর কাস্টমস ও বিমান বন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশকে খবর দেয়। তারা তার লাগেজ ও পুঁটলি অনুসন্ধান করে কোন ঘোষণা ছাড়া আনা এসব চোরাই স্বর্ণের বার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে এবং তাকে আটক করে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সুশান্ত পাল ইত্তেফাককে জানান, আটক যুবকের লাগেজ তল্লাশি করে ১৪৬টি লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। যেগুলোর ওজন ১ হাজার ৪৪৬ তোলা প্রায়। এছাড়া তার হ্যান্ডব্যাগের নানা অংশ তল্লাশি করে আরো ৪০০ গ্রাম আংটি, চেইনসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তাকে বিমানবন্দর থেকে নামিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে মালামালসহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কয়েকটি সূত্র জানায়, শাহনেওয়াজকে মধ্যপ্রাচ্য-বাংলাদেশ রুটে প্রায়শ যাতায়াত করতে দেখা গেছে। সে দুবাইতে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো বলে জানিয়েছে। সে এই রুটে স্বর্ণ ও অর্থপাচারকারী চক্রের সদস্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
