মংলায় চিংড়ি ঘেরে ভয়াবহ মড়ক, নিস্ব হচ্ছেন চাষীরা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৯
মংলাসহ আশপাশের এলাকায় বাগদা চিংড়ি চাষে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মংলা পৌরসভাসহ এখানকার ছয় ইউনিয়নের চিংড়ি ঘেরগুলোতে গত দু’মাস ধরে ব্যাপক হারে মাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ঘেরে মাছ মরে যাবার কারণে এবার এ অঞ্চলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম বাগদা চিংড়ি উত্পাদন হবার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া মাছ মরার কারণে চিংড়ি চাষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। মংলা উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মংলাসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই যুগ আগ থেকে ধানের পরিবর্তে বছরের প্রায় ৮ মাসই বাগদা চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। মংলা উপজেলার ১২ হাজার ৫শ’ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে প্রায় ১১ হাজার জমিতেই বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়ে থাকে। আর এ পরিমাণ জমির মধ্যে ছোট বড় ঘেরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। গতবছর এখানে বাগদা উত্পাদিত হয়েছিল ৪ হাজার ৪১ মেট্রিক টন। কিন্তু মড়কের কারণে এবার উত্পাদনের পরিমাণ গতবারের অর্ধেক হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চিংড়ি চাষীরা। মংলা উপজেলার চাঁদপাই গ্রামের চিংড়ি চাষী আব্দুল্লাহ জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে ঘেরে পোনা মাছ ছাড়ার পর এপ্রিল মাস থেকে বিরতিহীন ভাবে মাছ মরছে হোয়াইট স্পট ভাইরাসের কারণে। সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের ইব্রাহীম জানান, দিয়ার খন্ড এলাকায় শতাধিক বিঘা জমি লীজ নিয়ে তিনি এবার বাগদা চাষে প্রায় ১৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু মড়কের কারণে মাছ মরে যাওয়ায় তিনি এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি মাছ পাননি। উপজেলার চিলা, আন্ধারিয়া, বুড়বুড়িয়া, জয়খা গ্রামের কয়েকজন ঘের ব্যবসায়ী জানান, গত বারের তুলনায় চিংড়ি পোনার দাম দ্বিগুণের বেশি। গতবার প্রতিটি পোনার মূল্য ৩০ পয়সা হলেও এবার সেই পোনা কিনতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পয়সা ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ঘেরের ব্যয়ও দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে। সরকার চিংড়ি মাছ রপ্তানি করে শত শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলেও চিংড়ি উত্পাদনকারীদের সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয় না। উপজেলা মত্স্য অফিসও চিংড়ি চাষীদের সচেতন করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয় না। মড়কের কারণে উপজেলার চিংড়ি উত্পাদন গতবারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বলে দাবি করেছেন চিংড়ি চাষী ও ডিপো মালিকরা। উপজেলা চিংড়ি বনিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মাহে আলম অভিযোগ করে বলেন, ভাইরাসের কারণে চিংড়ি ঘেরে মাছ মরে গেলেও উপজেলা মত্স্য কর্মকতাসহ সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে চাষীদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। মংলা উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ দেব বলেন, বিভিন্ন কারণে বাগদা চিংড়ি মারা যায়। মৌসুমের শুরুতে ঘের প্রস্তুত করার সময় চাষীরা ঘেরের মাটির সঠিক পরিচর্যা করে না, জমির ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য যে পরিমাণ চুন ব্যবহার করার দরকার তাও ঠিকমতো করে না। এ ছাড়াও নিয়মিত ফরমুলেটেড খাদ্য সরবরাহ না করা, পানি পরিবর্তন ও বায়ূ সঞ্চালনের ব্যবস্থা না করার কারণেও মাছ মারা যাচ্ছে।