আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার নীল নকশা পূরণ হবে না :খালেদা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৫
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এখনো সময় আছে, আসুন আলোচনার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাই। আপনাদের তত্ত্বাবধায়কের দাবি আমরা পূরণ করেছিলাম। আমাদের দাবিও পূরণ করতে হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে দেশ চালাবে। আপনারা জিতলে আমরা অভিনন্দন জানাবো। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার নীল-নকশা পূরণ হবে না। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। ঈদের পরে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি। আগামীতে ঐক্যের রাজনীতি সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিভক্তি নয়, ঐক্যের রাজনীতি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়া হবে। আলোচনা করে সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। দেশ মারাত্মক সংকটের মধ্যে অতিক্রম করছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বিঘ্নিত করেছে। তিনি বলেন, মানুষ চায় এই সরকারের বিদায়। তারা কোনোদিন এ সরকারকে ভোট দেবে না। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন ফন্দি আটছে। তাদের অধীনে কোনো অবাধ নির্বাচন হতে পারে না। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দরকার। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব হবে নির্বাচন পরিচালনা করা। যারা নির্বাচিত হবেন তাদের কাছে সেই সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচ বছর হতে চললো দেশের যে সম্পদ ছিল সব লুটপাট করেছে, দেশে কোনো উন্নয়ন করেনি তারা। প্রতিটি জায়গায় সন্ত্রাস করেছে, দলীয়করণ করছে। দেশে এখন আর আইনের শাসন নেই। মেধার মূল্যায়নও হচ্ছে না। তিনি বলেন, নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির হাতে সরকারের প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতির গোপন তথ্য ছিলো বলেই তাদেরকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সরকার জড়িত। আর সেজন্যই সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদ বিক্ষোভ সত্ত্বেও হত্যাকারীদের সরকার গ্রেফতার করেনি। গণমাধ্যম বন্ধের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহামুদুর রহমানকে আটক রাখা হয়েছে। তার মুক্তি দাবি করে অনতিবিলম্বে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা, দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশন খুলে দেয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলো। উপ-নির্বাচনেও তারা সন্ত্রাস চালিয়েছে। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের উচ্ছেদের সময় সরকার ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড গুলি খরচ করেছে। গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। অথচ সরকার মিথ্যা কথা বলছে। তাদের সত্য বলার সাহস নেই। সরকারের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশিদের নির্দেশে নয়, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। ইফতার মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইফতার করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির একেএম নাজির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু প্রমুখ। সম্পাদকদের মধ্যে অংশ নেন ইনডিপেন্ডেন্ট সম্পাদক মাহবুবুল আলম, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক আমান উল্লাহ কবির, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া ইফতারে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি আবদুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ প্রমুখ। এছাড়া ইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।