মিসরে সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভের ডাক সেনাপ্রধানের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৮
মিসরে সহিংসতা ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় আগামীকাল শুক্রবার রাজপথে নেমে জনগণকে বিক্ষোভ করার আহবান জানিয়েছেন সেনা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তিনি মিসরকে স্থিতিশীল করতে জনগণের সমর্থন চেয়েছেন। গতকাল বুধবার এক সামরিক গ্রাজুয়েশনের অনুষ্ঠানে সেনা প্রধান এই আহবান জানান। মুসলিম ব্রাদারহুড তার এ আহবান প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছে কাতার। খবর বিবিসি ও এএফপি’র। জেনারেল সিসি সহিংসতা ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশকে সহায়তা করতে রাস্তায় নেমে আসার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। মুসলিম ব্রাদারহুড সেনা প্রধানের এই বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এভাবে হুমকি দিয়ে মোহাম্মদ মুরসির সমর্থনে বিক্ষোভ বন্ধ করা যাবে না। সেনা প্রধান জেনারেল সিসি গণসমাবেশের আহবান জানালেও এটা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জাতীয় ঐক্য চান এবং গণঅসন্তোষ চান না। জেনারেল সিসির এই বক্তব্য থেকে এটা মনে করা হচ্ছে যে, আসলে তিনিই মিসর চালাচ্ছেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর নন। সামরিক বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে জেনারেল সিসি বলেছেন, তিনি জনগণের কাছ থেকে তার ভাষায় সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবেলার ম্যানডেট চান। এতে বোঝা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ না থামায় সামরিক বাহিনী অধৈর্য হয়ে উঠেছে। ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান এসাম আল-ইরিয়ান বলছেন, জেনারেল সিসির এই হুমকি লক্ষ লক্ষ লোকের বিক্ষোভ বন্ধ করতে পারবে না। তবে মোহাম্মদ মুরসির বিরোধী তামারুদ আন্দোলন জেনারেল সিসির এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। নীল ডেল্টা শহরের একটি থানায় বুধবার এক বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছে। আরব বসন্তের জোরালো সমর্থক কাতার মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক আহবানে শামিল হয়েছে। কাতার মিসরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাতার বলেছে, তারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে অব্যাহতভাবে আটক রাখায় বিস্মিত হয়েছে।