মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৯
আজ ১৫ রমজান। এখন প্রয়োজন আরো গভীরভাবে আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া। কেননা আগামী বছর আবার যে আমরা সবাই রোজা পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া এখন থেকেই আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরশীল হওয়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যা রমজান পরবর্তী সময়ে তাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে সহায়তা করবে। একজন ঈমানদার ব্যক্তি পার্থিব কোনো ব্যক্তিবিশেষের পর নির্ভরশীল হতে পারে না। তিনি সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ঐ সত্ত্বার দিকে মুখ ফেরাবেন যিনি আসমান, জমিন ও সবকিছুর মালিক। কুরআনে বলা হয়েছে- ‘যাঁরা ঈমানদার, তাঁরা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম স্মরণ করে তখন তাদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে তাঁর কালাম পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তাঁরা তাদের পরওয়ারদেগারের ওপর ভরসা করে’ (আল-আনফাল-২)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন: আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই পৌঁছবে না। তিনি আমাদের অভিভাবক। আল্লাহর ওপরই মু’মিনদের ভরসা করা উচিত’ (আত্ -তওবাহ্ -৫১)। ‘মূসা (তাঁর জাতিকে) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যদি আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো তবে তারই ওপর ভরসা করো। এ প্রসঙ্গে রসূলের (স.) চাচা ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হাসবুনাল্লাহু অ-নি’মাল অকীল’ বাক্যটি হযরত ইব্রাহীম (আ.) সে সময় বলেছিলেন, যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। আর এ বাক্যটিই মুহাম্মদ (স.) বলেছিলেন, যখন লোকেরা (মুসলমানদের) বললো, তোমাদের বিরুদ্ধে (লড়বার জন্য) শত্রুবাহিনী জমায়েত হয়েছে সুতরাং তাদের ভয় করো। কিন্তু এ কারণে মুসলমানদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা বলেছে ঃ হাসবুনাল্লাহু অ-নি’মাল অকীল। অর্থাত্ আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট আর তিনি কতোই না উত্তম দায়িত্বশীল অভিভাবক’ (বুখারী)। ইবনে আব্বাস (রা.) আরো বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) (রাতের তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের জন্য ওঠার সময়) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য ইসলাম কবুল অর্থাত্ আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে ধাবিত হয়েছি এবং তোমারই ফায়সালার প্রার্থী হয়েছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার সম্মানের মাধ্যমে আশ্রয় চাই। যাতে তুমি আমাকে গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট না করে দাও। তুমি ছাড়া আর কোনা মা’বুদ নেই। তুমি চিরঞ্জীব, তুমি মরবে না। আর জ্বিন ও মানুষ সবই মরে যাবে’ (বুখারী ও মুসলিম)। রসূল (স.) বলেছেন, জান্নাতে এমন অনেক লোক দেখা যাবে যাদের দিল পাখির দিলের মতো হবে। (অর্থাত্ তাদের দিল নরম) এবং তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করবে’ (মুসলিম)। ‘হযরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহকে (স.) বলতে শুনেছি, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার হক আদায় করতে, তবে তিনি পাখিকে রিজিক দেয়ার মতই তোমাদেরকেও দিতেন। পাখি তো সকালে খালি পেটে বের হয়ে যায় সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে’ (তিরমিজী)। ‘হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (স.)-এর সাথে হিজরতের সময় সওর-পাহাড়ের গুহায় থাকাকালীন মুশরিকদের পদধ্বনি শুনছিলাম। তারা তখন আমাদের নিকট আসছিলো। আমি তখন বললাম ঃ হে আল্লাহর রসূল (স.) যদি এখন তাদের কেউ তাদের পায়ের নীচ দিকে তাকায় তাহলে আমাদেরকে দেখে ফেলবে। রসূলুল্লাহ (স.) বললেন ঃ হে আবু বকর! ভয় পেয়ো না আমরা দুইজন মাত্র নই; আমাদের সঙ্গে আল্লাহ রয়েছেন (বুখারী ও মুসলিম)। ‘উম্মুল মুমেনীন উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) যখন তাঁর বাড়ি থেকে বের হতেন তখন বলতেনঃ আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যেনো আমি গোমরাহ না হই অথবা আমাকে গোমরাহ না করা হয়। আমি যেনো দ্বীন থেকে সরে না যাই অথবা আমাকে সরিয়ে না দেয়া হয়। আমি যেনো কারো ওপর জুলুম না করি অথবা আমার উপর জুলুম না করা হয়। আমি যেনো মূর্খতা অবলম্বন না করি অথবা আমি মূর্খতার শিকার না হয়ে যাই (আবু দাউদ ও তিরমিজী)। সুতরাং জীবনের সকল গুনাহ্ মাফের ও আল্লাহকে একান্ত প্রিয় হিসাবে পাওয়ার এই মোবারক মাসে আমরা আমাদের প্রতিটি কথায়, কাজে ও সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর দয়া, করুণা ও ক্ষমার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পারলৌকিক জীবনের পাথেও সঞ্চয় করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: [email protected]