আজ কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের (১৯১৭-১৯৯৮) ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। সাম্প্র্রদায়িকতা ও মৌলবাদবিরোধী এই লেখক আজন্ম শোষকের বিরুদ্ধে তার লেখনী অব্যাহত রেখেছিলেন। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে শওকত ওসমানের জন্ম। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম শেখ আজিজুর রহমান কিন্তু সাহিত্য নামের আড়ালে তা ঢাকা পড়ে যায়।
তার রচিত ‘ক্রীতদাসের হাসি’ সর্বকালে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণজাগরণের দিশারি। একইসঙ্গে তার বহুল আলোচিত ‘জননী’ উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে বিশ্বসাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ উঠে এসেছে।
এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে—সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজপুরুষ।
সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে একুশে পদক, মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার প্রভৃতি।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ আজ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ভাষাসংগ্রামী রবীন্দ্র গবেষক আহমদ রফিক।
