আশুলিয়ায় ছাত্রলীগের অফিস ভাঙচুর, নেপথ্যে মাদক কারবার!

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০০:৪৩

আশুলিয়ায় ছাত্রলীগের অফিস ভাঙচুরের নেপথ্যে মাদক কারবারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের অফিসসহ দুইটি দোকান ভাঙচুর করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আল বেরুনী হলের নেতা-কর্মীরা। জাবির এক কর্মীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামনগর বাজারে চা খেতে যান চিন্ময় সরকার। চায়ের দোকানে ঢুকতে গিয়ে চিন্ময়ের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী জহিরের ধাক্কা লাগে। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চিন্ময়কে মারধর করে। পরে আল বেরুনী হলের ২৫-৩০ জন নেতা-কর্মী ইসলামনগর বাজারে হামলা চালায়। ডিজিটাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের দুইটি দোকান ও আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের স্থানীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গতকাল সোমবার সকালে ইসলামনগর বাজারের কয়েকটি দোকান ছাড়া সব বন্ধ ছিল। চিন্ময় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী। চিন্ময় বলেন, ইসলামনগর বাজারে চা খেতে যাই। চায়ের দোকানে জহিরের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী জহিরসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। কারণ জহিরের মাদকের ব্যবসা সম্পর্কে আমি আগে থেকেই জানতাম।

ওই বাজারের দোকানদাররাও বলছেন, জহির মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। জহিরের সঙ্গে চিন্ময়ের ওঠাবসা আছে। কিছুদিন আগে চিন্ময়সহ আল বেরুনী হলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা হয় জহিরের। এতে আল বেরুনী হলের নেতা-কর্মীরা জহিরকে মারধর করে। এই ঘটনার জেরেই চিন্ময়কে একা পেয়ে মারধর করা হয়। এ বিষয়ে জহিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। জহিরের বাবা বাতেন মিয়া জহিরের মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কথা বললেও পরে ফোন রিসিভ করেননি। ডিজিটাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক ও আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে আমার কাছ থেকে চাঁঁদা দাবি করে আসছিল জাবি শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জহিরের ঘটনার জের ধরে তারা আমার দোকান ও থানা ছাত্রলীগের স্থানীয় অফিসে ভাঙচুর চালায়। জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কখনো চাঁদা দাবি করেনি। তারা অফিসও ভাঙচুর করেনি। ওটা তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে সে তার অবৈধ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করেন।