শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নিকট দুদকের ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যগণ হচ্ছেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত। দুদক আইনের অনুশাসন অনুসারে প্রতি বছর এ প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট দাখিল করা হয়।
সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রপতি শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য করণীয় সবকিছু করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি নির্মূলে কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীদের যদি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর আসে তাও যেন কমিশনের নজরে থাকে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেছেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে বা যারা সরকারি সম্পত্তি যেমন রেলের জায়গা, সড়ক বিভাগের জায়গা, গণপূর্ত কিংবা খাস জমি, বন বিভাগের জমি প্রভৃতি দখল করে রেখেছেন তাদেরকে অনুরোধ জানাই এসব সম্পত্তি ফিরিয়ে দিন, নইলে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অভ্যাহত রাখা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য যারা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ নিয়েছেন বা ঋণ দিয়েছেন তারা জনগণের এই অর্থ সমন্বয় করুন নইলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।
দুদক সরকারের তল্পিবাহক এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অসম্ভব। দুদক কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। যে কারণে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট বঙ্গভবনে এসে দাখিল করছি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দুদকের সরকার বা অন্য কোনো সংস্থার তল্পিবাহক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুদক শুধু চুনোপুঁটিদের ধরে এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তারাই এই কথিত চুনোপুঁটির দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার। এইসব চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরো দৃঢ় করা হবে।
