হোয়াটএভারলাইফ ডট কম

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ১৬:৫৬
আজকাল অনেক তরুণ-তরুণীকেই দেখা যায় বাসায় বসে কম্পিউটার ব্যবহার করে নিজেদের ক্যারিয়ারের সঠিক পথটি খুেঁজ নিচ্ছেন। তাদের মতোই একজন ছিলেন অ্যাশলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ক্যারিয়ারের শুরু করে আজ তিনি সফলতার চূড়ায় নিয়ে গেছেন নিজেকে। অ্যাশলের গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম নিজের ঘর থেকে শুরু করে তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছেছেন তার বয়সী টিনেজ মেয়েদের জন্য ‘হোয়াটএভারলাইফ ডট কম’ নামের সাইটটি বানিয়ে। হোয়াটএভার লাইফ একটি ওয়েবসাইট, এখানে তরুণ-তরুণীরা এসে তাদের কথা জানাতে পারেন। সেটা থেকে তারা তাদের মনের মতো করে বেছে নিতে পারে তাদের ক্যারিয়ার। তবে, তার এই সাইটের শুরুটা এত সহজে হয়নি। জেনে নেওয়া যাক তার শুরুর গল্পটি। আয়ান মোরেই, ভ্যালু ক্লিক মিডিয়া কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার, তিনি ইন্টারনেটে টিনেজারদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। হঠাত্ তিনি হোঁচট খেলেন একটি সাইট দেখে। টিনেজারদের এত অ্যাকটিভিটিজ, এত কথা এক সাইটে আবদ্ধ করে রাখা, ব্যাপারটা তাকে স্বভাবতই নাড়া দেয়। সেই সাথে তিনি যা খুঁজছিলেন তা খুব সহজেই পেয়ে যান। তিনি আরও অবাক হন জেনে যে, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা একটা ছোট্ট মেয়ে। মজার ব্যাপার হলো, মাইস্পেস, ফেসবুকের মতো অসংখ্য সাইট ইন্টারনেটের জগতে গাছের পাতার মতো গজিয়ে উঠলেও তা বেশিদিন টেকে না, চলার পথেই হারিয়ে যায়। অথচ এই প্রতিদ্ব্বন্দ্বিতার যুদ্ধে শুরু থেকেই ভালোই চলছে ‘হোয়াটএভারলাইফ ডট কম’ নামের টিনেজ সাইটটি। সাইটটি অনেক দিক থেকেই বেশ উন্নত। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট মাইস্পেসের সাথে এর ডিজাইনের অনেকটাই মিল আছে। তবে, আকর্ষণীয় বিষয় হলো, দৈনিক প্রায় হাজারখানেক টিনেজ তরুণের ছবি এতে অ্যাটাচ করা হয়। সাইটটি নিয়ে আয়ান মন্তব্য করেন, ‘চমত্কার অলংকরণ ও কাজের বৈচিত্র্য-আমাদের এমনটাই দরকার’। আয়ান অল্প চেষ্টাতেই পেয়ে গেলেন সাইটটির নির্মাতা, অ্যাশলে’কে। উদ্দেশ্য, ব্যাপকভাবে টিনেজদের আনাগোনায় মুখরিত এ সাইটটিতে নিজের কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেওয়া। আর এজন্য তিনি ৪৫০ ডলার অথবা মুনাফা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবে রাখেন। কিন্তু প্রথমেই তার ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়। অ্যাশলে তার প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তবে, কয়েক সপ্তাহ পরে অ্যাশলে তার মত বদলায়। সেসময় আয়ান একটা ব্যবসায়িক কাজে লস অ্যাঞ্জেলসে থাকায় পুরো ব্যাপারটি ফোন ও ইমেইলের মাধ্যমে সারতে হয়। তখনও তাদের সামনাসামনি কথা হয়নি। আয়ানের জন্য ব্যাপারটা খুবই মজার অভিজ্ঞতা ছিল। কারণ তার ব্যবসায় পার্টনার হতে যাচ্ছে মাত্র ১৭ বছরের একটা মেয়ে। তার কোম্পানি থেকে প্রশ্ন করা হয়, মেয়েটা কি পারবে এমন কাজের সাথে দায়িত্ব নিয়ে যুক্ত হতে! উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ইন্টারনেটে বিচরণ করে এমন অনেক জাদুকরের মধ্যে সে একজন। আর তার বয়সী যে কারও থেকে এ বিষয়ে তিনি অনেক বেশি অভিজ্ঞ।’ অ্যাশলে, সত্যিকার অর্থেই ইন্টারনেট প্রফেশনাল বলা যায় তাকে। ‘হোয়াটএভারলাইফ ডট কম’ প্রতিষ্ঠার প্রায় দু’বছরই আগেই তিনি হাইস্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন। একটা বাসা ভাড়া নেন এবং নিজের একটা কোম্পানি করার উদ্যোগ নেন তিনি। তার সাথে ছিল লিলি অ্যালেনসহ আরও কয়েকজন, তার মতোই শিক্ষার্থী। ইন্টারনেটের কাজ খুব ভালোভাবে জানত বলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু কোনোটাই তিনি গ্রহণ করেনি। এমনকি তাকে কোম্পানির পক্ষ থেকে একটা গাড়ি ও ১.৫ ডলার বেতন অফার করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কেউ কিছু জানতে চাইলে তার জবাবে তিনি হেসে বলেন, ‘আমার কি চাকরি করার বয়স হয়েছে? আমার তো ড্রাইভিং লাইসেন্সই নেই!’ ইন্টারনেট নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে তার প্রথমেই যে জিনিসটার দরকার হয় তা হলো, অর্থায়ন। সেটা জোগাতে তিনি ওয়েবপেজ তৈরির ব্যবসা করতে থাকেন। সেখানেও একসময় ভালো ব্রেক পান তিনি। মাইস্পেসের ডিজাইন তারই করা। সেটা তিনি বিক্রি করেন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু সেখান থেকে তেমন কিছুই আয় করতে পারেনি তিনি। এরপর সিদ্ধান্ত নেন, এমন কিছু করার, যা থেকে আয় করতে পারেন তিনি। সেখান থেকেই মূলত ‘হায়াটএভার লাইফ’-এর সূচনা। এই সাইট থেকে তার ইনকাম বলতে গেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই হয়।