‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, থানার ওসি ক্যারামবোর্ড খেলায় ব্যস্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি আদালতের নজরে আনেন বিজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম এবং আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চ আদালতের সম্মানিত দুইজন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও এ বি এম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ আদেশ জারি করেন অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে। এ বিষয়ে আদালত রুলও জারি করেছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করতে অবহেলাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে সম্মানিত আদালতের রুল জারি। আমি মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের তরফ থেকে অসীম শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাই মাননীয় দুই বিচারপতিকে এবং বিজ্ঞ দুই আইনজীবীকে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বর্তমানে যারা বেঁচে আছেন, তাঁদের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি হবে না। কিন্তু দুঃখ হয় তখনই যখন দেখি আমাদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাই কষ্টে জীবন যাপন করছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যদি কাউকে রিকশা চালাতে হয়, এমনকি কেউ ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেয় সত্যিই তা দুঃখজনক। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন:প্রথমত, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি একান্ত দরকার। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে দুই হাজার টাকা একটা পরিবারের জন্য খুবই নগণ্য। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, প্রতি উপজেলা সদরে সরকারি জায়গা যথেষ্ট রয়েছে সেখানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে যতটুকু সম্ভব জায়গা বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন থাকা খুবই বাঞ্ছনীয়।
তৃতীয়ত, প্রতিটি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধার জন্য অন্তত ৫% কোটা বরাদ্দ রাখা।
চতুর্থত, দেশের প্রতিটি থানায় সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করা বাঞ্ছনীয় যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। যেমন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা। দাফন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের জন্য সম্ভাব্য সরকারি আর্থিক অনুদানের তদারকি।
ঢাকা
