ফের গৃহযুদ্ধের মুখে মিসর

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২১:০০
সুনসান রাস্তাঘাট। মোড়ে মোড়ে কালো পোশাকে লাঠি হাতে সেনার জটলা। কিন্তু তাহরির স্কোয়ারের সামনের চিত্রটা একেবারে উল্টো। দু’পক্ষ একে অপরের দিকে চিত্কার করছে। আর তাদের মাঝে বালির বস্তা দিয়ে ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে আছে সেনাবাহিনী। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি। আকাশে টহল দিচ্ছে বিমান। ফের গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত মিসরবাসী। উদ্বিগ্ন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও। —খবর আনন্দ বাজার পত্রিকার। গত ৩ জুলাই মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুরসিকে দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশের জনগণ সরাসরি দু’ভাগে বিভক্ত। মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য এসাম এল-এরিয়ান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তিনি লিখেছেন, “যার হাত ধরে আরব বসন্তের একটা সফল রূপদান সম্ভব হয়েছিল আজ সেই মুরসিই সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত।” তার মতে, জেলে হামলা চালানোর অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। নিজের পক্ষে কথা বলার জন্য কোনো আইনজীবী পর্যন্ত দেয়া হয়নি মুরসিকে। কেউ জানতেই পারছে না শুনানির নামে ঠিক কী চলছে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফতেহ্ আল-সিসি মুরসি সমর্থকদের বিরুদ্ধে পথে নামার ডাক দিয়েছেন। মুরসিকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ২৮ জুন থেকে তাহরির স্কোয়ারে অবস্থান নেয় মুরসি-সমর্থকেরা। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মুরসি-বিরোধীদের পথে নামার ডাক দেন সিসি। উল্টো দিকে মুরসি-সমর্থকদের শুক্রবারের মধ্যে সরে যাওয়ার আদেশ দেন। গত ৮ জুলাই মুরসি বিরোধী-আর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫০ জন মুরসির সমর্থক নিহত হয়েছিলেন। এখনও যদি দু’পক্ষের কেউই তাদের জেদ না ছাড়ে তা হলে গৃহযুদ্ধ আসন্ন বলে মনে করছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল। মহাসচিব বান-কি-মুন অবিলম্বে মুরসিকে ছেড়ে দেয়ার আবেদন জানানোর পাশাপাশি মুরসির বিরুদ্ধে চলা মামলার স্বচ্ছতা বজায় রাখারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু গৃহযুদ্ধ না গণতন্ত্র, কোন পথে হাঁটছে মিসর তা সময় বলবে।