দেশের কয়েকস্থানে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙছে নদী তীরবর্তী এলাকা, সেইসাথে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
ভোলা উত্তর \ গত পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে ভোলা জেলার সদর ও দৌলতখান উপজেলার পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর, ধনিয়া, কাচিয়া, মদনপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের ২০ গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সহায়-সম্বলহীন এই সমস্ত মানুষের অনেকে ভিটাবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া মহাসেন ও বিভিন্ন সময়ে জোয়ারের পানির চাপে জেলায় মোট ১১০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোর অন্তর্গত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানসমূহ দিয়ে পানি ঢুকছে। এলাকাবাসী জানায়, বর্ষার আগে ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করলে এই বিপত্তি এড়ানো যেতো। এ ব্যাপারে ওয়াপদার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, বিলম্বে অর্থ বরাদ্দ, তাও আবার প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) \ নিম্নচাপের প্রভাবে ২৪ জুলাই হতে মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত একমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়ায় রায়পুর উপজেলায় চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের (সিআইপি) বেড়িবাঁধের বাইরে চরকাছিয়া, চরঘাসিয়া, চরইন্দুরিয়া, চরলক্ষ্মী, কানিবগার চর ও চরআবাবিল গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমন ফসলের অনেক বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ও চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদউল্যা বিএসসি জানান, বাড়িঘরে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের ৫ হাজার পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এবং কাঁচা রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গেছে। এদিকে নদীতে পানি বেশি হওয়ায় হাজীমারা স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। সিআইপির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ শওকত আলী জানান, নিম্নচাপ কেটে গেলে নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম শামীম আলম জানান, চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার হেক্টর আমন চাষের জন্য কৃষকরা প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছে।
শিবচর (মাদারীপুর) \ আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙ্গনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষা বাঁধের মাদারীপুরের শিবচর অংশের হাজী শরিয়তউল্লাহ সেতুর পশ্চিম এলাকার একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙ্গনে গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় দেড়শ’ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শহিদুল তালুকদার নামের এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, গত দু’দিনে মহাসড়ক রক্ষা বাঁধে দেড় থেকে দু’শ’ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বাঁধ নদী ভাঙ্গনে আক্রান্ত হয়ে মহাসড়ক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কবিরউদ্দিন বলেন, মহাসড়ক রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে মহাসড়কটি ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী থেকে মহাসড়ক মাত্র আড়াইশ’ মিটার দূরে রয়েছে।
