দারিদ্র্য হ্রাসে গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত উপকারভোগীদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এ কর্মসূচির বাইরে থাকলেও সরকারি হিসেবে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত উপকারভোগীদের সংখ্যা ২২ কোটি পার হয়েছে। সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী ২০১০ সালে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় পৌঁনে ৫ কোটি ছিলো দরিদ্র। অন্যদিকে ২০১০-২০১১ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ জন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে মোট ৯৮টি কর্মসূচির মাধ্যমে বরাদ্দ ছিলো ২২ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ২৯৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা বাজেটের ১৪ ভাগ। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো বাজেটের শতকরা ১৩ দশমকি ৭৯ ভাগ। কিন্তু বিপুল উপকারভোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক গণনার ফলে উপকারভোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিসমূহের উপকারভোগীগণ একই সময়ে একাধিক কর্মসূচি থেকে সেবাপ্রাপ্ত বিধায় এখাতে উপকারভোগী হয়েছে ১২ কোটির বেশি।
এবিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন কাজগুলো সমন্বিত নয়। প্রকৃত উপকারভোগীরাও অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ দরিদ্র নয়। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মতো বড় কর্মসূচিগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। মেয়েদের বৃত্তি কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরাদ্দকৃত বাজেট উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছানোরও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জিইডি সদস্য ড. শাসমুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করছে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচি থেকে উপকারভোগী হচ্ছে। অনেক সময় বড় আকারের ব্যয় করেও প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। আবার অনেক কর্মসূচিতে একাধিকবার উপকার পেয়েছেন অনেকেই। এ খাতের সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত উপায় বের করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি সামাগ্রিক ডাটাবেজ এবং উপকারভোগীদের হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের উদ্দ্যেশে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জাতীয় ডাটাবেজ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ রবিবার নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে একটি সমন্বিত উপায় খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাতিল করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং দরিদ্র হ্রাসে সহায়ক কর্মসূচিগুলোতে জোর দেয়ার সুপারিশ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় পরিচালিত প্রায় ৯২টি কর্মসূচি এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় একই ছাতার নিচে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক খাতের উন্নযনে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিসমূহ পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় পরিবীক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
