মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে লঞ্চ ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২২:২৩
অবৈধ লঞ্চ চলাচলের প্রতিবাদে শনিবার সকাল হতে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও মাওয়া-মাঝিকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সিরিয়াল না মেনে অবৈধভাবে শাহপরান নামের একটি লঞ্চ কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ মালিক সমিতি এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। সুষ্ঠু বিচার ও পরিবেশ ফিরে না আনলে লঞ্চ চলাচল অনির্দিষ্ট-কালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি। ধর্মঘটের কারণে বৃষ্টিতে সাধারণ যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার বা স্পিডবোটে তারা পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। সেই সাথে এই সুযোগে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে কাওড়াকান্দি ঘাটে অন্যসব লঞ্চগুলো সিরিয়াল মত যাত্রী ধারণ করছিলো । হঠাত্ করে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে চলাচল নিষিদ্ধ শাহপরান নামের একটি লঞ্চ সিরিয়াল ভেঙ্গে জোরপূর্বক যাত্রী নিয়ে মাওয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে উভয় ঘাটের লঞ্চ মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়। মাওয়া-কাওড়াকান্দি লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের নির্দিষ্ট রুট পারমিট ও টাইম-টেবিলের বাইরে শাহপরান নামের লঞ্চে কাওড়াকান্দি ঘাট হতে শনিবার সকালে ২ শতাদিক যাত্রী নিয়ে মাওয়া ঘাটে আসে। কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসী নিয়ে এসে ঘাটের সুপার ভাইজারদের মারধর করে মাওয়া ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এর প্রতিবাদে লঞ্চ মালিক সমিতি সকাল হতে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও মাওয়া-মাঝিকান্দি নৌরুটে সকল প্রকার লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক ইন্সট্রাক্টর (টিআই) আক্তার হোসেন জানান, শাহপরান নামের লঞ্চটির কোন রুট পারমিট নেই। তাই মালিক সমিতি এ লঞ্চটিকে এ নৌরুটে চলাচলের অনুমতি দেয়নি। এটি চলতে দিলে এ রকম আরো ৭-৮টি অবৈধ লঞ্চকে এ রুটে চলতে দিতে হবে। মাওয়া নৌফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান বিকাল ৪টায় জানান, লঞ্চ ধর্মঘট চলছে। তবে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়া হচ্ছে। তারা ট্রলার,স্পিডবোট ও ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছে। তিনি অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। তবে কখন এই লঞ্চ সার্ভিস চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না।