আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় সরব হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এলাকার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। রমজান মাসে ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমেও অনেকে নিজেদের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তা দিচ্ছেন।
তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক কর্মসূচিসমূহে অংশগ্রহণ অপেক্ষাকৃত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ফ্যাস্টুনে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। বিভিন্ন জাতীয় দিবস কিংবা ধর্মীয় দিবসে নিজেরা এবং তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রার্থিতার কথা জানানো হচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ চলার সাথে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে অনেক আসনে প্রধান দুইটি দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং নিরসন এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।
গত নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীরা ১১টি আসনে জয়লাভ করেছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ও জাসদের একজন করে নির্বাচিত হন। অপরদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট থেকে ৪টি আসনে এবং এলডিপির প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একটি আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৮ দলীয় জোটের ৪টি আসনের মধ্যে বিএনপির ৩ জন এবং জামায়াতে ইসলামের একজন জয়লাভ করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার জোটের প্রার্থীরা প্রথমবারের মতো সর্বাধিক সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেন। তাই আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ভালো করার চেষ্টা চালাবে। অপরদিকে বিএনপিও হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাবে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বর্তমান এমপি ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন মনোনয়ন প্রত্যাশী। মীরসরাই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে থাকছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রফেসর এমডি কামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান লায়ন গভর্নর প্রফেসর কামাল উদ্দিন ছাড়াও বেশ কয়েকজন। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিজয়ী হন। এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, মীর্জা আকবর প্রমুখ। এ আসনে আওয়ামী লীগের কমপক্ষে অর্ধ ডজন রাজনীতিক আগামী জাতীয় নির্বাচনে লড়াই করতে চান। এছাড়া এক সময় উক্ত আসনে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে তার অনুসারীরা জানান। ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন গতবারের পরাজিত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং ওই আসন থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নূরুল আলম চৌধুরী, ফটিকছড়ি আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম রফিকুল আনোয়ারের একমাত্র সন্তান খাদিজাতুল আনোয়ার সানি, ফখরুল আনোয়ার, মালয়েশিয়া প্রবাসী ডা. মাহমুদ হাসান ও স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের দখলে থাকলেও তার মৃত্যুর পর থেকে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আগামী নির্বাচনেও তিনি ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মোস্তফা হোসেন, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল প্রমুখ। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় আছেন গত নির্বাচনের প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র মাহফুজুর রহমান মিতা এবং স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার। এখনো পর্যন্ত আর কেউ জোরালোভাবে তোড়জোড় শুরু করেননি। এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। এদিকে, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় আছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন বাবুল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ও চাকসুর সাবেক ভিপি এসএম ফজলুল হক।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা ফজলে করিম চৌধুরী আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইবেন। আপাতত কাউকে মনোনয়ন যুদ্ধে নামতে দেখা যায়নি। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এবং উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ঘিরে আবর্তিত হবে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিমত। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে মহাজোটভুক্ত জাসদের নির্বাহী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল আগামী নির্বাচনেও জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। গত নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে রয়েছেন-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আবুল কালাম। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোরশেদ খানের নাম বাতাসে ভাসছে। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনসহ গণসংযোগমূলক কাজ করছেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম বিএসসি এবারও মনোনয়ন প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী হচ্ছেন গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি শামসুল আলম। এই আসনে এখনো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে দলের সিদ্ধান্তের ওপর।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে এমএ লতিফ এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রার্থী হতে পারেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও মনোনয়ন যুদ্ধে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম এবং মহিলা সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব। এ আসনে বিএনপি থেকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জুয়েল, বিএনপি নেতা ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাদত আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক প্রমুখ মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুতে তার বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন। তিনি আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ওই আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সরওয়ার জামাল নিজাম এবং চট্টগ্রামের সিনিয়র আইনজাবী অ্যাডভোকেট কবির চৌধুরী। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে দীর্ঘদিন ধরে কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। গত নির্বাচনে তিনি এলডিপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এবারও তিনি এ আসনে একজন শক্ত প্রার্থী। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুল হক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের ছোট ভাই ডা. মহসীন জিল্লুর রহমান। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন এবং রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে গত নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামের মাওলানা শামসুল ইসলাম নির্বাচিত হন। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় জামায়াত শিবিরের শক্ত অবস্থানের কারণে এবারও ১৮ দলের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামের বর্তমান সংসদ সদস্য ও নগর জামায়াতের সভাপতি শামসুল ইসলাম মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানুল কবির চৌধুরী, ব্যারিস্টার হাসান এমএস দোলন, রেজাউল করিম চৌধুরী, আবদুল্লা কবির লিটন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। বাঁশখালী আসনে মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে তার সমর্থকরা জানান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ইতিমধ্যে এলাকায় বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করেছেন।
