খুলনায় আওয়ামী লীগের ২২ এমপির মনোনয়ন ঝুঁকিতে!

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:৩৭
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রধান শরীক দল আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ২২ জন সংসদ সদস্যের মনোনয়ন ঝুঁকির মধ্যে আছে। এই সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে তাদের এলাকার একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে দূরত্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নিজস্ব জরিপে উঠে এসেছে এ চিত্র। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট ৩২টি আসন পেয়েছিল। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি পায় ২টি আসন। বিএনপি পেয়েছিল ২টি আসন। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২২ জন বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ইতিমধ্যে এই এমপিদের এলাকায় দলের একাধিক নতুন মুখ মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই আসনগুলোর মধ্যে আছে খুলনার ৫টি, বাগেরহাটের ৩টি, সাতক্ষীরার দুটি, যশোরের ৬টি, নড়াইলের ১টি, মাগুরার ১টি, চুয়াডাঙ্গার ২টি এবং ঝিনাইদহের ২টি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে বিভাগের খুলনা জেলার ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক নতুন মুখ জোরালোভাবে মনোনয়ন পেতে তত্পরতা শুরু করেছেন। এর মধ্যে খুলনা-১ আসনে জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, সাবেক এমপি পঞ্চানন বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সোহেল প্রার্থী হতে আগ্রহী। খুলনা-২ আসনে আপাতত নতুন কোন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। তবে সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকও শেষ পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। খুলনা-৩ আসনে প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান খান খোকন প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে সমপ্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সদস্য পদ স্থগিতসহ মহানগর কমিটি তাকে শোকজ করেছে। অপরদিকে খুলনা-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী সাবেক হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আলী আকবর, জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান জামাল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট সুজিত্ অধিকারী ও মেজর (অব.) মোদাচ্ছের। খুলনা-৫ আসনে বর্তমান এমপি ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাদী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব-উল ইসলাম, সাবেক ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন প্রমুখ। খুলনা-৬ আসনেও রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে সাবেক এমপি এডভোকেট শেখ নূরুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী মোহম্মদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টার স্ত্রী ইভা রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবুসহ অনেকে নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া বাগেরহাট-২, ৩ ও ৪, সাতক্ষীরা-১ ও ৩, যশোর-১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬, নড়াইল-২, মাগুরা-১, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ এবং ঝিনাইদহ-১ ও ৩ আসনেও আওয়ামী লীগের একাধিক মুখ মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনে জনবিচ্ছিন্ন কারো মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে একাধিক জরিপ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে, তাদের মতামত ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পছন্দ এবং প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে পার্লামেন্টারী বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই নির্বাচন করবেন।