মজিলার নারী সিইও মিশেল

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫১
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মজিলা সম্পর্কে কিছু কথা মজিলা শব্দটি বিভিন্নভাবে নেটস্কেপ কমিউনিকেশন কর্পোরেশন এবং এর সাথে সম্পর্কিত অ্যাপলিকেশন সফটওয়্যার, মজিলা ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে মজিলা নামটি ব্যবহূত হয়ে আসছে নেটস্কেপ নেভিগেটর ওয়েব ব্রাউজারের কোড নাম হিসেবে। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই এই নামটি ব্যবহূত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জেমি জাউইন্সকি একটি মিটিংয়ে এই নামটি প্রস্তাব করেন। মোজাইক-এর বিকল্প হিসেবে এই নামটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেটস্কেপের মাধ্যমেই অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাউজারের উপর রাজত্ব করা যাবে বলে মনে করা হয়েছিল। এই লোগোটিতেও গজ্জিলা দৈত্যের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়। মজিলা নেটস্কেপ কমিউনিকেশন কর্পোরেশনের মাসকট হিসেবে ব্যবহূত হত, এই প্রতিষ্ঠানটি মোজাইক কমিউনিকেশন কর্পোরেশন নামে পরিচিত ছিল। প্রাথমিকভাবে, বিভিন্ন ধরনের মাসকট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এর মধ্যে রয়েছে বর্ম পরিহিত নভোচারী বা ‘মহাকাশচারী’, কিন্তু হঠাত্ এই গজ্জিলার মতো মাসকট ব্যবহারের চিন্তার পাশাপাশি গজ্জিলার মতো নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে ডেভ টিটাস এর ডিজাইন তৈরি করেন। কোম্পানির প্রথমদিকের বছরগুলোতে নেটস্কেপের ওয়েবসাইটে বিশেষভাবে মজিলা ব্যবহার করা হয়। তবে, এই প্রকল্পে কিছুটা ‘পেশাদারিত্ব’ লক্ষণ (মূলত কর্পোরেট গ্রাহকদের কারণে) আনতে পরবর্তীতে ওয়েবসাইট থেকে এটি সরিয়ে ফেলা হয়। মজিলা নেটস্কেপের আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যবহূত হতে থাকে, প্রায় সময়ই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য তৈরি টি-শার্ট অথবা মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোনিয়াতে নেটস্কেপের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার জন্য আর্টওয়ার্কসমূহে ব্যবহার করা হতো। মজিলা মাসকটের দৈত্যের রং সবুজ থেকে লালে পরিবর্তন করা হয় যখন নেটস্কেপ ব্রাউজারের সোর্সকোড উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। যখন নেটস্কেপ ১৯৯৮ সালে ওয়েবসাইট ডিরেক্টরি গ্রহণ করে সেইসময় নাম পরিবর্তন করে মুক্ত ডিরেক্টরি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয় এবং মজিলা প্রকল্পের সাথে মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহূত হতে থাকে। ‘মজিলা’ প্রায় সময়ই ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার প্রকল্পটিকে নির্দেশ করে থাকে, যা নেটস্কেপের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী ইন্টারনেট স্যুট তৈরির উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়েছিল। সম্প্রতি মজিলা পরিবারে নতুন একজন সদস্য যোগদান করেছেন। নারী এ সদস্য যোগ দিয়েই সাড়া ফেলে দিয়েছেন চারিদিকে। মজিলা নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বলেও শোনা গেছে। নতুন সিইও’র নাম, ‘উইনিফ্রেড মিশেল বেকার’। মিশেল বেকারের জন্ম :১৯৫৭ সালে। মিশেল বেকার পরিচিত মজিলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এবং আরেকটি সহ-প্রতিষ্ঠান মজিলা কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মিশেল পেশায় আইনজীবী। চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০০৫ সালে মিশেল ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মিশেল ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম-এর সেরা ১০০ প্রভাবশালী নারীর একজন হয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন মিশেল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১৯৭৯ সালে স্নাতক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল থেকে পরবর্তী সময়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পরই তিনি কর্পোরেট এবং মেধাস্বত্ব বিষয়ে ফেনউইচ অ্যান্ড ওয়েস্ট নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে কাজ করে। মজিলা ফাউন্ডেশনের আগে তিনি সান মাইক্রোসিস্টেমসেও আইন বিষয়ে কাজ করেছেন। একনজরে তার সম্মাননাগুলো  মিশেল বেকার ২০০৫ সালে ১০০ সেরা বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেছিলেন।  ২০০৯ সালে পেয়েছেন অনিতা বোর্গ ইনস্টিটিউট ওমেন অব ভিশন পুরস্কার।  ২০১২ সালে ইন্টারনেট সোসাইটির ইন্টারনেট হল অব ফেমে স্থান পেয়েছেন।