স্বপ্নই যার লেখালেখি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫২
আশিক মুস্তাফা ডাক নাম :আশিক জন্ম তারিখ ও স্থান :১ জানুয়ারি, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মইজদীপুর গ্রামে। মায়ের নাম :শামসুন্নাহার বাবার নাম :মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম প্রথম স্কুল :মইজদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :সত্যিকারের দেখাটা হয় অন্তর দিয়ে; চোখ দিয়ে নয়। আর যা খাঁটি, যা আসল, তা সব সময়ই চোখের আড়ালে থেকে যায়। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট ও স্লিপার অবসর কাটে যেভাবে :ভ্রমণ ও বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :মন যে দিকে চায় সে দিকেই ছোটা। তবে অবশ্যই জয়ের বিশ্বাস হূদয়ে অটুট রাখতে হবে। শৈশব কেটেছে হোস্টেলের গণ্ডিতে। ফলে শৈশবের কথা মনে পড়লেই বুকের ভেতরটা হা-হাকার করে ওঠে তার। শুধুই শূন্যতায় ভরা তার শৈশব। তবে কৈশোরের সঙ্গী ছিল সাইকেল। বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল স্কুল। তাই যাতায়াতের জন্য সাইকেলই ছিল ভরসা। সেই সাইকেলের চাকায় তার স্বপ্ন ঘোরাতেন। প্যাডেল চেপে শান দিতেন স্বপ্নের গায়ে। এখনও চোখ বুজে সেই সাইকেলে চড়েন তিনি। ছোট মানুষ বা বৃদ্ধ দেখলে ক্রিং ক্রিং করে ফের জেগে উঠেন! বড় ভাই ডায়েরি লিখতেন। আশিক তার ডায়েরি পড়তেন চুরি করে। বড় ভাইয়ের সব লেখাই তাকে মুগ্ধ করত। হাতের লেখাও ছিল দারুণ! লেখালেখি করে জাতীয় পর্যায়ে গোল্ড মেডেলও পেয়েছেন ভাই। তার বইও বেরিয়েছে তবে তা কবিতা, গল্প বা উপন্যাসের নয়; সবই গবেষণাধর্মী। আর সমকালের ঘাসফড়িং পাতার মাধ্যমে লেখালেখির চর্চার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন আশিক। একজন শিশুসাহিত্যিক হিসেবে তার কাজের পরিধি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল কাজের পরিধি কখনও গণ্ডিবদ্ধ করা যায় না। যখন যা মন চায়, তা-ই লিখি। আমি শুরুতে ছড়া লিখতাম। ২০০৭ সালের শেষের দিকে শাহবাগে সুমন নামে এক কিশোরের সঙ্গে পরিচয়। তারপর তার সঙ্গে মিশি। সে পপকর্ণ বিক্রি করত। নানা বৈচিত্রে ভরা সুমনের জীবন খুব কাছ থেকে দেখি। একসময় তার জীবনযাত্রার সঙ্গে কল্পনার মিশেলে লিখি কিশোর উপ্যাস ‘পপকর্ণ বয়’। আবার ভূতের খপ্পরে পড়ে সেই ভূত নিয়ে গল্পগু লিখেছিলাম। আবার মনের তাড়না থেকে রাত জেগে নজরুলের জীবনী কমিকস্ আকারেও লিখেছি। নাটক লিখেছি, আবার প্রাণীদের কাল্পনিক সাক্ষাত্কারও নিয়েছি অনেক!’ এই প্রজন্ম নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমীর তরুণ লেখক প্রকল্পের প্রথম ব্যাচে ছিলাম আমি। সেখানে একজন নামিদামি বুদ্ধিজীবী এসেছিলেন ক্লাস নিতে। ক্লাসের একপর্যায়ে তিনি বলেন। এই প্রজন্ম যা লিখে তার কিছুই মুখে রোচে না। আর তোমরা তো আগের লেখা কিছুই পড়ো না। বললাম, স্যার, এই প্রজন্মের এমন দু-একটি বইয়ের নাম বলুন যা আপনি পড়েছেন কিন্তু মুখে রোচেনি। তিনি বলতে পারলেন না। আসলে তারা না পড়েই অনেক গত্বাঁধা মন্তব্য করে ফেলেন। তবে ব্যতিক্রমও আছেন। অনেকেই সবার লেখা পড়েন। আবার অনেকের ধারণা, এই প্রজন্ম বই পড়ে না। আমি সেটা বিশ্বাস করি না। আগের চেয়ে প্রকাশনী বেড়েছে। লেখক বেড়েছে। একইভাবে পাঠকও বেড়েছে। এই পাঠকের প্রায় ৬০ ভাগই হচ্ছে তরুণ। তা ছাড়া এই প্রজন্ম যেমন আগের লেখা পড়ে সমানতালে পত্রিকার সাহিত্যপাতা এবং বইও পড়ে। যা অনেক প্রবীণ পড়েন না। আমি মনে করি প্রজন্মের এ গ্যাপ থাকা উচিত না।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে আশিক বলেন, ‘স্বপ্নকে নির্দিষ্ট ট্র্যাকে রাখা খুবই কষ্টকর। আজ এই স্বপ্ন তো কাল সেই স্বপ্ন! এমন অসংখ্য স্বপ্ন প্রতিনিয়ত ভাবনার বারান্দায় উঁকিঝুকি দেয়। তবু এইসব স্বপ্ন ছাপিয়ে যে স্বপ্নটা প্রায়ই উসাইন বোল্টের মতো ট্র্যাকে সবার আগে থাকে, তা হচ্ছে—বাংলা সাহিত্যকে আরও ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। যাতে ‘গীতাঞ্জলি’র মতো ১০০ বছর পার না করেই পাশ্চাত্য সাহিত্যের মতো বাংলা সাহিত্য নিয়মিত নোবেল পুরস্কারের তক্মা গায়ে লাগাতে পারে। আর লেখালেখির বাইরের স্বপ্নটা হচ্ছে মহাকাশে যাওয়া। আমি আমার এই দুটো স্বপ্ন সব সময়ই লালন করি।’