ইরাকে আবার গৃহযুদ্ধের আশংকা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২০:৫২
২০০৬ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ শেষ হয়েছে ৫ বছর আগে। এখন ইরাক আবার মুখোমুখি হয়েছে সিরিজ বোমা হামলা, রাজনৈতিক হত্যা ও জাতিগত হানাহানির। এ মাসে সহিংসতায় মারা গেছে ৬ শতাধিক বেসামরিক লোক। এরফলে ইরাকে আবার আশংকা দেখা দিয়েছে গৃহযুদ্ধের। প্রায় প্রতিদিন বোমা হামলা হচ্ছে। এ মাসের প্রাণহানি মে মাসের সংখ্যার কাছাকাছি যাচ্ছে। মে মাসে নিহত হয়েছিল ৯৬৩ জন আর আহত হয়েছিল দুই সহস্রাধিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাদ মান বললেন, আল-কায়েদার প্রথম লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব মানুষ হত্যা করা, দ্বিতীয় লক্ষ্য জাতিগত কোন বার্তা পৌঁছে দেয়া, তৃতীয় লক্ষ্য গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রাখা। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে ্ইরাকে। সিরিয়ার আল-কায়েদা যোদ্ধারা ইরাকে ঢুকে পড়তে পারে এবং একটি সন্মিলিত ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে সেই ভয়ে ইরাক ইতিমধ্যে সিরিয়ার সাথে তার সীমান্ত পথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। ইরাকে যে ধরনের জঙ্গি হামলা অব্যাহত রয়েছে তাতে মনে হয় এর পেছনে আল-কায়েদার হাত আছে। মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন এমন একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আমি মনে করি অন্য কোন জঙ্গি গ্রুপের পক্ষে এ ধরনের জটিল হামলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বেশিরভাগ হামলা হচ্ছে আত্মঘাতী যা আল-কায়েদার একটি বৈশিষ্ট্য। ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, ্্্্্্্্্্্্্্্উত্তর আফ্রিকা এবং অন্য আরব দেশগুলো থেকে বিদেশি জঙ্গিরা সিরিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে ইরাকে ঢুকে পড়ছে। ইরাকে বন্দি আল-কায়েদা জঙ্গিদের জেল থেকে বের করে আনার ব্যাপারে মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের সাথীরা। গত সপ্তাহে তারা বাগদাদের নিকটবর্তী আবু গারিব জেল এবং তাজি জেলে হামলা চালায়। আত্মঘাতী হামলাকারীদের সাথে সেনা ও কারারক্ষীদের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা যায়। জেলখানার নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক বাহিনীর কয়েকঘণ্টা সময় লেগে যায়। কর্মকর্তারা জানান, চার আল-কায়েদা নেতাসহ ৩৫০ বন্দি এসময় পালিয়ে যায়। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আবু গারিব এলাকার সামরিক কমান্ডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপেশাদার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। যা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর হ-য-ব-র-ল অবস্থার্্্্্ই পরিচয় বহন করে। সারাদিন রোজা শেষে মার্কেট ও চা-নাস্তার দোকানগুলোতে যাওয়া সাধারণ মানুষ এসব জঙ্গি হামলার সহজ শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে একই দিন ১১টি স্থানে গাড়ি বোমা হামলা হয়েছে। মন্ত্রী-আমলাদের ওপর হামলা করা কঠিন হয়ে পড়ায় মসজিদ, শিয়াদের পবিত্র স্থান এবং মার্কেটগুলো জঙ্গি হামলার সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক সংকটের কারণেও ইরাকে জঙ্গি হামলা বাড়ছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। সুন্নিদের কিছু দল আলাদা বসতভূমি চাচ্ছে। অনেকে বলছেন, যেসব দল নির্বাচনী দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে তারা শক্তি সংগ্রহের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে সন্ত্রাসকে বেছে নিচ্ছে। ইরাকের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ রুশদি বললেন, অনেকে এ বছরের প্রাদেশিক নির্বাচনে হেরে গিয়ে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোকে শক্তি সংগ্রহের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে। দিয়ালা প্রদেশের বাকুবায় সিরিজ বোমা হামলার ফলে জাতিগত হানাহানি বেড়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ২০০৬ সালে সামারায় শিয়াদের পবিত্র স্থানে বোমা হামলার পর ইরাকে গৃহযুদ্ধ দেখা দিয়েছিল। সে ঘটনা শিয়া মিলিশিয়াদের মধ্যে প্রতিশোধ স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছিল। এখন আল-কায়েদা আবার সে গৃহযুদ্ধ শুরু করাতে চাচ্ছে। জুলাইয়ে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী শিয়া ধর্মীয় নেতার শোকসভায় হামলা করে। এরপর শিয়ারা দিয়ালার কিছু সুন্নি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এবং মসজিদে হামলা করে। আশংকা করা হচ্ছে দিয়ালার জাতিগত সহিংসতা অন্য প্রদেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বতন্ত্র এমপি এবং তামিম গোত্রের নেতা সাফিয়া সুহাল বলেন, দিয়ালার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। ইরাকের সর্বত্র এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোন কোন রাজনৈতিক দল ও মিলিশিয়া গ্রুপ জাতিগত বিভেদকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। সাফিয়া সুহাল বলেন, এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনার জন্য যেই দায়ী হোক আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত তাকে বিচারের আওতায় আনা। কিন্তু আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।