তেলেঙ্গানা, কোস্টাল অন্ধ্র প্রদেশ ও রাইয়ালাসীমা এই তিনটি অঞ্চল নিয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ গঠিত। সেখান থেকে তেলেঙ্গানা পৃথক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পাঁচ দশক ধরে আন্দোলন চলছে। ৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন বসার আগেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু সরকারের এই অবস্থানে রাজ্য কংগ্রেস ক্ষুব্ধ। অন্ধ্র প্রদেশকে ভাগ করলে রাজ্য সরকারের কংগ্রেসের সিনিয়র ১৫ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন বলে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর কাছে চিঠি লিখে হুমকি দিয়েছেন। গত শনিবার এক বৈঠকে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের পক্ষে কথা বলেছেন। তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করা হলে ভেতরে বাইরে সব মহল থেকেই কংগ্রেস তোপের মুখে পড়বে। রাজ্য কংগ্রেস নেতারা বলছেন, রাজ্যের অন্য দুটি এলাকার মানুষের অনুভূতি খাট করে দেখা হচ্ছে নির্বাচনে সুবিধা পেতে— এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা। কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের নেতৃত্বাধীন তেলেঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়। পরে অন্ধ্র প্রদেশের অন্য দুটি অঞ্চলের আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। মূলত তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক অর্থনৈতিক শক্তি হায়দারাবাদ নিয়ে মতবিরোধ। তেলেঙ্গানার লোকেরা হায়দারাবাদকে রাজধানী করতে চায়। অন্য এলাকার লোকেরা তা মানতে রাজি নয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকার হায়দারাবাদকে ৫-১০ বছরের জন্য উভয় রাজ্যের রাজধানী করার পক্ষে। অন্ধ্র প্রদেশে লোকসভার আসন ৪২টি। উভয় রাজ্যে সমান আসন রাখার পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে জগন মোহন রেড্ডি ও তার দল ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থক ভাগ হয়ে যাবে। কংগ্রেস আশা করছে এর সুফল পাবে কংগ্রেস।
