চট্টগ্রামের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাত্ করে তাকে আশীবাদ করেছেন। সাক্ষাত্কালে রমা চৌধুরী বলেন, ‘আপনি আমার চেয়ে বয়সে ছোট হওয়ায় আপনার প্রতি আমার আন্তরিক আশীর্বাদ থাকলো। যাতে আপনি আপনার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রী গণভবনের সভাকক্ষে রমা চৌধুরীকে দেখার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। তিনি রমা চৌধুরীকে তার পাশে বসার অনুরোধ জানান। রমা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা ও তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এ সময় তার দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানে না। আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক ঘটনা লিখে আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ১৯৭৫ সালে আমার পিতা, মাতা এবং পরিবারের অপর সদস্যদের হারিয়েছি। এখন নিজেকে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত রেখে দুঃখ ভুলে থাকার চেষ্টা করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, অবসর জীবনে আমার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা আছে। রমা চৌধুরী এ সময় জানতে চান, বিদেশে তাদের জীবনের প্রতি কোন হুমকি আছে কি-না? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, রাজাকার ও বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সব জায়গায় আছে।
১৭টি গ্রন্থের লেখক রমা চৌধুরী চট্টগ্রামে তার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তিনি শেখ হাসিনাকে তার লেখা তিনটি বই উপহার দেন। গ্রন্থগুলো হলো— একাত্তরের জননী, এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য এবং ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ।
