নারায়ণগঞ্জের নিখোঁজ যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সোহানা বেগম। আর এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহানা বলেন, ‘পারভেজকে যে মেয়র আইভী ও রাব্বিরা গুম করিয়েছেন, তা নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ধূলিকনা পর্যন্ত জানে। কারণ, আইভী-রাব্বিরা প্রকাশ্যে জনসভা করে বলেছেন পারভেজের লাশ পাওয়া যাবে।’ প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যুবলীগ নেতা পারভেজ। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি অপহূত ও পরে খুন হওয়া তরুণ লীগ নেতা নুরুল আমিন মাকসুদের স্ত্রী উম্মে সালমা মুন্নী। তিনিও তার স্বামীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় মেয়র আইভীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নী বলেন, ‘এই (মাকসুদের) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আইভী-রাব্বিরা জড়িত বলে আমার মনে যে সন্দেহ ছিল তা এখন নিশ্চিত হয়েছি। কারণ, শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আইভীরা কেন এই মিথ্যাচার করেছে যে, মাকসুদের হত্যার জন্য আমি আইভীকে দায়ী করে পরে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আইভীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের এই মিথ্যাচারই প্রমাণ করেছে আমার স্বামী হত্যার নেপথ্যে তারাই দায়ী।’
সোহানা বেগম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার অবুঝ সন্তানটিকে নিয়ে মানুষ করুন। আর আইভী আপা, পারভেজের মত আমাকেও আপনি গুম করে মেরে ফেলুন।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ৬ জুলাই ঢাকার গুলশান থেকে আমার সামনে ডিবি পরিচয়ে যখন পারভেজকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন সেখানে ফিরোজ নামে পুলিশের একজন সার্জেন্ট পুরো ঘটনা দেখছিলেন। যদি অপহরণকারীরা পুলিশ বা র্যাবের লোক হয়ে থাকেন তবে সার্জেন্ট ফিরোজ অবশ্যই তাদের চিনে থাকবেন।’
সোহানা বলেন, ‘আইভী-রাব্বিরাই গত ২৮ এপ্রিল শহীদ মিনারে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করতে হামলা চালিয়েছিল। অথচ নিখোঁজ স্বামীর খোঁজ পেতে আমি কোথাও যেতে পারছি না। কারণ আমি যাদের সন্দেহ করছি তাদের নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমার শিশু সন্তানটিকে অপহরণ করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সে স্কুলে যেতে পারছে না। অন্যদিকে গুলশান থানায় আমার মামলা নেয়া হচ্ছে না।’
সোহানা বেগম মানবাধিকার কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘আজ এতদিন হয়ে গেল আমার স্বামী নিখোঁজ হয়েছেন। কোথায় সুশীল সমাজ? কোথায় জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত মানবাধিকার কমিশন?’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি ছাড়া আমি কার কাছে সাহায্য চাইবো? একটি সভ্য দেশে রাস্তার উপরে স্ত্রী-সন্তানের সামনে থেকে টেনে-হিচড়ে স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।’ সোহানা বলেন, ‘আমার অবুঝ শিশু সন্তানটি এখনও মনে করে তার বাবাকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এনে দেবেন। আপনি আমার সন্তানকে এতিম হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন। আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেতে চাই, সন্তানের পিতাকে ফিরে পেতে চাই।’
সোহানা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে যারা আমার স্বামীকে অপহরণ করে নিয়ে গেল তারা যদি পুলিশ বা অন্যকোন সংস্থার লোক না হয়ে থাকেন তবে তারা কারা? জাতির বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিবে কে?’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান দীপু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সাগর, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ।
