তিস্তা ও স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রশ্নে চাই দ্রুত রাজনৈতিক ঐকমত্য

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:২৬
তিস্তার পানি বণ্টন ও স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রশ্নে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্রুত রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। কেননা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যর্থতা বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ভারতের ট্রানজিটের প্রত্যাশাকে অচল করবে। অপরদিকে সীমান্ত চুক্তির গুরুতর মানবিক তাগিদ রয়েছে। সোমবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ আরো বলা হয়, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কূটনৈতিক প্রয়াস সত্ত্বেও ভারত ঢাকার জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, এ দু’টি ইস্যুতে সমাধানের বাতায়ন ক্রমশ:বন্ধ হয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজিপি’র কারণে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে তিস্তার পানি বণ্টন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও স্থল সীমান্ত চুক্তি বিষয়ে বিজিপি নেতা অরুণ জেঠলির কাছ থেকে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ইতিবাচক আশ্বাস পেয়েছেন। পানি বণ্টন নিয়ে মনমোহন সিং আশ্বাস দিয়েছেন যে, দিল্লী ঢাকার স্বার্থের অনুকূলে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছতে কাজ করছে এবং জেটলি বলেছেন, বিজিপি স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা করবে। তবে দিল্লীকে মৌখিক আশ্বাসের পরিবর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে হবে। পত্রিকায় বলা হয়, ভূমি বিনিময়ের বিষয় জড়িত থাকায় স্থল সীমান্ত চুক্তির জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই চুক্তির অধীনে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের ছিটমহল বিনিময় করলে স্থল সীমান্ত সুসংগত হবে। এক্ষেত্রে বিজিপির যুক্তি হচ্ছে- এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে বেশি জমি দেয়া হবে। ফলে ভারত অনেক জমি হারাবে। কিন্তু বিদ্যমান এই ছিটমহলগুলোতে একটি মানবিক দুর্দশারও দিক রয়েছে। এখানকার অধিবাসীরা উভয় দেশ থেকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া শেখ হাসিনা সরকার যখন বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সে সময় প্রধান বিরোধী দলের এই বৃহত্ প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কাম্য নয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যর্থতা বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারতের ট্রানজিটের প্রত্যাশাকে অচল অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনার সরকারের জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করবে। দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দিল্লীর দেয়া বাড়তি বাজার সুবিধার ফলে বাংলাদেশি রফতানির পরিমাণ যে কোন সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া আন্তঃগ্রিড সংযোগের মাধ্যমে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাবে। ঢাকাকে দেয়া দিল্লীর ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রবাহও ছিল সন্তোষজনক। তবে ওই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দিল্লীর ব্যর্থতায় এসব কিছুই গৌণ হয়ে যাবে।