দিনাজপুরে বৃষ্টির অভাবে আমন চাষ ব্যাহত

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৬
শস্যভান্ডার দিনাজপুর। এখানকার উত্পাদিত ধান চাল জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্রও সরবরাহ করা হয়। অথচ আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণেও বৃষ্টির দেখা নেই। প্রকৃতি তার স্বাভাবিক আচরণ করছে না। বৃষ্টির জন্য চারদিকে চলছে কৃষকদের হাহাকার। বর্ষা মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা আমন চাষ নিয়ে শংকায় রয়েছে। বৃষ্টির অভাবে ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা সেচ পাম্প। বোরো মৌসুমের মত মাঠে মাঠে এখন সেচ পাম্পের শব্দ। এখনই বর্ষার আগমন না ঘটলে সেচের জন্য কৃষকদের আমন চাষে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। ফলে আমন চাষে কৃষকদের লোকসানের আশংকা থেকেই যাচ্ছে। সেচের জন্য সরবরাহের ৪০ শতাংশ বিদ্যুত্ পল্লী বিদ্যুেক দিতে হচ্ছে। কৃষি বিভাগ দিনাজপুরে এ বছর ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৬ টন। গত ১৬ জুলাই থেকে আমন রোপণ শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম ইত্তেফাককে জানান, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে করে কৃষক আর বসে না থেকে আমন চাষ শুরু করে দিয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে আকাশের পানির উপরে অপেক্ষা না করে সেচ দিয়ে দ্রুত রোপণ করার জন্য। তিনি জানান, গতকাল শনিবার জেলায় গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭.৮ মিলিমিটার। দিনাজপুর সদরে হয়েছে ৮ মিলিমিটার। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কৃষকরা সেচ দিয়ে আমন চাষের প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ মুহূর্তে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ১৬৭টি গভীর নলকূপ, ৩ হাজার ১৫৮টি অগভীর নলকূপ এবং ১৫টি লো-লিফট পাম্প দিয়ে দিন-রাত সেচ কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষেতগুলো খরার কবলে পড়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গভীর নলকূপগুলো চালু করার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। কৃষকদেরও সেচ দিয়ে আমন রোপণের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু সদরের কৃষক আব্বাস আলী জানান কৃষি বিভাগ তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতির পানির বড় প্রয়োজন। অনেক কৃষকের মতে বৃষ্টি না হলে এবার অনেক জমি অনাবাদি রয়ে যাবে।