স্বামীসহ তার পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে রিতা খাতুন (১৮) নামে এক গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। নির্যাতিত গৃহবধূ রিতা খাতুনকে সোমবার রাতে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, ১২ মে রাতে নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী গ্রামে ওই গৃহবধূর স্বামী অলিদ মোল্যার বাড়িতে।
নির্যাতিত গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে নড়াইলের নজরুল চৌধুরীর মেয়ে রিতা খাতুন প্রেম করে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন একই জেলার ফরিদ মোল্যার ছেলে অলিদ মোল্যাকে। বিয়ের পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে রিতার যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়।
গত ১২ মে রাতে স্বামী অলিদ মোল্যা নামাজ পড়তে গেলে রিতা তার খালা ও বোনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে। বিষয়টি জানতে পারে স্বামী অলিদ মোল্যা। সেই রাতে স্বামী অলিদ মোল্যাসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রিতাকে ঘরের মধ্যে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে আটকে রাখে। পরে রিতা কৌশলে পালিয়ে তার বোনের বাড়ি যায়।
গত সোমবার রাতে তার বোন তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রিতার চোখের কোনে আঘাতের কালোদাগসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডের ৫নং শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতিতা রিতা খাতুন বলেন, প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম পরিবারকে না জানিয়ে। আমরা গরীব মানুষ তাই স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন আমাকে মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের পর থেকে আমার পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়নি। এমনকি বাবার বাড়িতেও যেতে দেয়নি। আমার শরীরের প্রতিটি আঘাতের বিচার চাই।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
