দুধের হাটে ভেজালের কারবার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৪
রাজধানীর সর্ববৃহত্ দুধের আড়ত পুরান ঢাকার রথখোলা মোড়ের আড়তে পচনরোধে দুধে ফরমালিন মিশিয়ে বিক্রি করছিল ব্যবসায়ীরা। শতভাগ খাঁটি দুধ দাবি করে এই দুধ বিক্রি করে আসছে তারা মিষ্টির দোকানে, বাসা বাড়িতে। এছাড়া রাজধানীর নামিদামি হোটেল, বড় বড় রেস্তোরাঁ ও খাবার দোকানের দুগ্ধজাত খাবার তৈরি হত এই দুধ দিয়ে। গতকাল সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই আড়তে গিয়ে প্রায় এক হাজার মণ দুধ ধ্বংস করে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত আড়তে গিয়ে বড় বড় ড্রাম ভর্তি দুধের মধ্যে ফরমালিন পেয়েছে। আটজন দুধ ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয় আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক দুধ ব্যবসায়ী বিভিন্ন জেলা থেকে দুধ ভর্তি ট্রাক না পাঠানোর জন্য খবর পাঠিয়ে দেয়। জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ দুধ বেচাকেনা হয়। মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, আড়াইহাজার, গজারিয়া, চাঁদপুর, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জ থেকে রথখোলায় দুধ আসে ট্রাক ও ট্রলারযোগে। দণ্ডপ্রাপ্ত আড়াইহাজারের দুধ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন, পাবনার রেজাউল, কেরানীগঞ্জের দিলু, ভাসান মিয়া ও সুমন মিয়া এবং মুন্সীগঞ্জের আব্দুস সাত্তার স্বীকার করেছেন, তারা বেশ কয়েক বছর ধরে দুধে ফরমালিন মেশাচ্ছিল। এতে ৪/৫ দিন কিংবা এক মাসেও দুধ নষ্ট হয় না। অতি মুনাফার লোভে সামান্য জেল জরিমানাকে তারা তোয়াক্কা করে না বলে জানান। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, পুষ্টিমানের জন্য তারা রোগীদের দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু ফরমালিন মিশ্রিত দুধ খেলে উপকার তো হয় না বরং তা কিডনি, লিভার নষ্ট করে ফেলে। এতে ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল ব্যাধি হতে পারে। অভিযান চলার সময় সেখানে উপস্থিত ক্রেতারা বলেন, খাঁটি দুধ মনে করে তারা এখান থেকে দুধ কিনত। কিন্তু এগুলো তো দুধের নামে বিষ। তার মানে এতোদিন দুধের নামে বিষ খাইয়েছি সন্তানদের। এর আগে ২০০৬ সালে ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ দৌলার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত রথখোলার দুধের আড়তে অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মণ দুধে ফরমালিন থাকার প্রমাণ পায়। আটজন দুধ ব্যবসায়ীকে জেল জরিমানা করা হয়। সে সময় আড়তদাররা আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, তারা না জেনে, না বুঝে দুধে ফরমালিনের নামে বিষ মেশাচ্ছিলেন। এখন থেকে আর দুধে ফরমালিন মেশাবেন না কিংবা ফরমালিন মেশানো দুধ বিক্রি করবেন না। অথচ অতি মুনাফার লোভে পুনরায় দুধে ফরমালিন মেশানো শুরু করা হয়।