কুমার সম্প্রদায় নিয়ে ডকুমেন্টারি

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ১৯:৩৪

  ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

 

কুমার সম্প্রদায়দের নিয়ে কাজ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের দুইজন শিক্ষক। তারা হলেন সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী অধ্যাপক রতন কুমার। তারা কুমারদের জীবনচিত্র ও তাদের তৈরি পণ্য সমস্যা নিয়ে ‘মৃত্তিকা’ নামে একটি ডকুমেন্টারিও তৈরি করেছেন। ডকুমেন্টারিতে প্রধান চিত্রগ্রাহকের কাজ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ ঈশান, সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছিলেন মোস্তফা জামান বাধন। এছাড়াও ডকুমেন্টারিতে তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবা আক্তার, আইরিন আক্তার, আঁখি খাতুন, সায়মা সাবরিন। চলতি মাসের ৫ মে নিজ বিভাগেই এই ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এতে কুমার সম্প্রদায়দের নিয়ে নানা কথোপকথন উঠে আসে। কুমারদের জন্য কি করণীয় সে বিষয়েও আলোচনা করে সংশ্লিষ্টরা। ডকুমেন্টারি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম অধিকাংশই মৃিশল্প বিষয়ে পরিচিত নয়। তারা জানতে পারছে না যে কীভাবে একজন কুমার তার হাতের স্পর্শে মাটি দিয়ে অসাধারণ সব তৈজসপত্র তৈরি করছেন। আমাদের ঐতিহ্য আমাদেরকেই বাঁচাতে হবে।’ 

ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, নির্মল চন্দ্র পাল নামে এক কুমার তার পণ্যের ঝুঁকির কথা বলছেন এভাবে- ‘মেইন সমস্যা এখন বর্তমানে মাটি দেখা দিয়েছে। বিলে যে মাটিটা আমরা নিয়ে আসবো, আমাদের আগে কিছু খালে-বিলে সরকারি মাটি পাওয়া যাচ্ছিল; যেগুলো নিয়ে আসলে কেউ বাধা বিঘ্ন দেয়নি। এখন সরকারি মাটিগুলো পত্তন হয়ে যাচ্ছে, যায়া আমাদের মাটির অভাব দেখা দিয়েছে। আরও সমস্যা হচ্ছে ওই যে সিলভার, প্লাস্টিক। প্লাস্টিকের বাটি, বদনা, বালতি নেমে গেছে। মাটির বদনাতে অনেক কাজ হয়েছে। আবার মাটির থালে (প্লেটে) কিন্তু ভাত খেয়েছে। এখন কিন্তু তা খায় না।’ ডকুমেন্টারি গবেষণা পরিচালক ও ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রতন কুমার বলেন, ‘আমরা চেয়েছি সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রান্তিক আয়ের লোক শিল্পীদের অংশগ্রহণ থাকুক। তাহলে উন্নয়ন যেমন টেকসই হবে তেমনি তা হবে লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার একটা উপায়। এছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব মৃিশল্পের ব্যবহার বাড়াতে পারলে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।’