সুখের কী কোনো বয়স হয়? এ প্রশ্নের উত্তরে একদল হয়তো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবেন তারুণ্যের সময়টাই সবচেয়ে সুখের। আবার এর বিপরীত পিঠে দাঁড়িয়ে তরুণ কেউ হয়তো বলে বসবেন যে যারা জীবনের একটা বড় সময় পাড়ি দিয়ে এখন নিশ্চিন্ত বার্ধক্যের পথ পাড়ি দিচ্ছেন যারা সেই প্রবীণরাই বেশি সুখী। তবে সুখের মতো আপেক্ষিক একটি বিষয় নিয়ে মানুষের এই দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একেবারে চুলচেরা উত্তর এবার খুঁজে দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের সেন্টার ফর ইকোনমিক পারফর্মেন্সের একদল গবেষক। তাদের দাবি, মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুখী দুটি সময় হলো তার ২৩ ও ৬৯ বছর বয়সের দুটি সময়। অন্যদিকে মানুষের জীবনে সবচেয়ে হতাশাজনক সময়ের দেখা মেলে মধ্য পঞ্চাশে। তা ছাড়া জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়ে যারা ৭৫ বছর বয়সের সীমা পেরিয়ে যান তাদের ক্ষেত্রেও সুখের মাত্রা ক্রমে কমতে থাকে বলে দাবি গবেষকদের। মূলত ১৭ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ২৩,১৬১ জনের কাছ থেকে জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশে¬ষণ করে মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের সাথে সুখের এই সম্পর্কের কথা আবিষ্কার করেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের এই গবেষকরা। এদিকে মানুষের জীবনের ২৩ ও ৬৯ বছর বয়সী সময় দুটিকে সবচেয়ে সুখী সময় বলে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের আরও কিছু মজার দিকও তুলে ধরেছেন এই গবেষকরা। উদাহরণস্বরূপ বিশে পা দিয়ে অধিকাংশ তরুণই তাদের ভবিষ্যত বা নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে অতিমূল্যায়ন করে থাকেন এবং এই অতিমূল্যায়নের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত হয়। আবার ৫০ বছর বয়সের পর জীবনের উপর মানুষের যে তৃপ্তি হ্রাস পেতে থাকে সেটি পুনরায় বাড়তে শুরু করে ৫৫ বছর বয়স থেকে যা পুনরায় সুখের চূড়ায় ওঠে ৬৯-এ এসে। মজার বিষয় হলো এর কারণ খুঁজতে গিয়ে বিশ বছর বয়সী তরুণদের উল্টো চিত্রই খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ৬৮ বছর বয়সে এসে মানুষ তার ভবিষ্যত সম্পর্কে কিছুটা (প্রায় ৪.৫ শতাংশ) অবমূল্যায়ন করে এবং এর ফলে কম প্রত্যাশায় অধিক প্রাপ্তির একটা সুখ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে তাদের ৬৯ বছর বয়সে।
