শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়িরাই ব্যবস্থা নেবে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪২
জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ের আদিবাসীরা আত্মরক্ষার জন্য নিজেরাই ব্যবস্থা নেবে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। বাড়ছে আদিবাসীদের ক্ষোভ। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে আগামী ৯ আগস্ট জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, শক্তিপদ ত্রিপুরা, রবীন্দ্রনাথ সরেন উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে দশ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। একই সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসী জাতিগুলোর স্বীকৃতি, ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি, আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত সকল চুক্তি ও অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, আদিবাসীদের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারসহ দশ দফা দাবি জানানো হয়। সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন না করে সরকার পরোক্ষভাবে শান্তিচুক্তি বিরোধীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উত্সাহিত করছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আবার অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র চলছে, অন্যদিকে তত্পর হয়ে উঠছে ইউপিডিএফসহ আরো অন্যান্য চুক্তিবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব তাদের উত্সাহিত করছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আওয়ামী লীগ সরকার ৩ বছর ৮ মাস সময় পেয়েছিল। সেই সময় সরকারের তেমন কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। বর্তমান সরকার চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে পাহাড়ের আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে আদিবাসীদের ক্ষোভ। তিনি দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ের আদিবাসীরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য নিজেরাই ব্যবস্থা নেবে। শান্তিচুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় সংসদে সংশোধনের জন্য বিল আকারে উত্থাপিত ভূমি কমিশন আইন ২০১৩ (সংশোধিত) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে হয়নি। ১৩ দফা সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়ায় ১০টি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। বাকি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাদ দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন উপলক্ষে এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আদিবাসী ফোরাম। আগামী ৩ আগস্ট রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ আগস্ট সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এবং বেলা তিনটায় পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে আলোচনাসভা, ৯ আগস্ট আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে।