প্রধানমন্ত্রী আজ পীরগঞ্জ যাচ্ছেন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৩
আজ বুধবার সপরিবারে পীরগঞ্জ আসছেন রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে পুত্র কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় বক্তব্য রাখবেন—এমন খবরে গোটা পীরগঞ্জসহ রংপুরের বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জয়ের বক্তব্য শোনা ও রংপুরের পুত্রবধূকে সপরিবারে একসঙ্গে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রংপুরের মানুষ। এই প্রথম মা প্রধানমন্ত্রী ও পুত্র কম্পিউটার বিজ্ঞানী একই জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। ফলে এই জনসভা নিয়ে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নসহ রংপুরে গ্যাস সংযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি জানান, আজ পীরগঞ্জের জনসভায় সজীব ওয়াজেদ জয় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন। তিনি আরো জানান, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে দলের সদস্য পদ দেয়া হয়। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা জয় রংপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাল ধরবেন এবং জনগণের সেবা করে যাবেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আরো উপস্থিত থাকবেন জয়ের স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভার মায়া, তাদের কন্যা সুফিয়া ওয়াজেদ, শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল, জামাতা খন্দকার হাসান মাশরুল মিথুল, তাদের পুত্র জারিফ হোসেন, তিন কন্যা আমরিনা, আলিজা ও সিমি। প্রথমবারের মতো জয় তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভার মায়াকে নিয়ে বাড়ি আসছেন। এজন্য পারিবারিকভাবে বধূকে বরণ করে নিতে নেয়া হয়েছে ভিন্ন প্রস্তুতি। ঘোড়ার গাড়িতে করে জয় ও ক্রিস্টিনাকে নিয়ে যাওয়া হবে মিয়া বাড়িতে। পিছনে থাকবে গরুর গাড়ি ও রিকশা বহর। এই সফরকে ঘিরে এলাকার মানুষের আশা প্রধানমন্ত্রী আজ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা বলবেন। সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে শ্বশুরবাড়ি পীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ফতেপুর গ্রামের মিয়াবাড়ির পশ্চিমেই রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের সাথে ‘হেলিপ্যাড’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে নেমে তিনি নিজ গ্রাম লালদীঘির ফতেহপুরে অবস্থান করবেন। এ সময় তিনি স্বামী প্রয়াত বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়াসহ শ্বশুর-শাশুড়ির কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন এবং পরিবারের সাথে কুশলাদি বিনিময় করবেন। বিকাল ৩টায় পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভাস্থল থেকেই প্রধানমন্ত্রী কাঁচদহঘাটে করতোয়া নদীর ওপর প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড. ওয়াজেদ মিয়া সেতুর উদ্বোধন করবেন। এ সেতুটি উদ্বোধনের ফলে রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার মধ্যে সড়ক পথের দূরত্ব অন্তত ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘটবে বিরাট অগ্রগতি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বেশকিছু ভবনের। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৩ মে তত্কালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় ৩ বছরে সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১১ বছরে শুধু ৫টি ওয়েলের আংশিক কাজ করার পর ৪ দলীয় জোট সরকার সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বর্তমান মহাজোট সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করে।