মানিকগঞ্জের টুটুল আর দুর্জয় ক্রীড়া জগতের সেরা তারকা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২০:২০
ক্রীড়া জগতের দুুই উজ্জল নক্ষত্র মানিকগঞ্জের দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল এবং নাইমুর রহমান দূর্জয়। যারা এক সময়ে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় দেশে বয়ে এনেছিলেন বিশ্ব সম্মান।বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ৮০ এর দশকে ঢাকার মাঠের ফুটবল তারকা দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল সিংগাইরের সন্তান। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে ফুটবল ক্রিকেট, হকি ও ভলিবল খেলাসহ নানা ধরনের খেলায় অংশগ্রহন করলেও ফুটবলই ছিল তার মূল খেলা। দেওয়ান টুটুল এর মূল ক্যারিয়ার ফুটবল খেলা শুরু হয় মূলত ঢাকা লীগে ১৯৭৪ সালে ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে খেলার মাধ্যমে। তখন ছিলেন তিনি আক্রমন ভাগের খেলোয়াড়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তার জীবনে একটা পরিবর্তন আনেন অত্যান্ত শ্রদ্ধাভাজন গুরু আলী ইমাম। তার প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণে টু্টুল মধ্যমাঠে রক্ষণভাগে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং পরবর্তীতে আবাহনীর রাইট ব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তত্কালীন আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ কামাল টুটুলের খেলা দেখে আর কোন খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ না করে সরাসরি আবাহনীতে খেলার দুর্লভ সুযোগ করে দেন। যা ছিল কল্পনার অতীত। সেই থেকে আবাহনীতে টুটুলের যাত্রা শুরু এবং ১৯৯০ অবসরের মাধ্যমে সেই যাত্রা শেষ হয়। ফুটবল খেলার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কৃতিত্ব অর্জন করেন। আবু মোহাম্মদ নাইমুর রহমান দুর্জয়। যিনি ক্রিকেট খেলায় বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে ছিলেন। দূর্জয় মানিকগঞ্জের শিক্ষাবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবু মোঃ সায়েদুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র। ১৯৭৪ সালে তার জন্ম। দুর্জয় মানিকগঞ্জের ক্রীড়াক্ষেত্র ও ক্রীড়ামোদী মহলে ফুটবর ও ক্রিকেট খেলায় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ১৯৮৩ তে এরশাদ কিশোর ফুটবলে মানিকগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। দুর্জয় তার বড় মামা ফুটবলার গোলাম সারওয়ার টিপুর ভাবধারায় ফুটবলে বিশেষ আগ্রহ নিয়ে মেতে ছিলেন। ক্রিকেট বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল করে ভর্তি হন। উক্ত কলেজ থেকে পাঠ সমাপনের পর একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আই,সি,সি চ্যাম্পিয়নশীপ স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলে খেলেছেন দীর্ঘদিন এবং জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবার গৌরব অর্জন করেন। এর মধ্যে স্থানীয় ক্রিকেট লীগে অংশ নিয়ে সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অল্প সময়ের মধ্যেই বিশিষ্ট ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে কর্তৃপক্ষ ও প্রশিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রথম একাদশের অন্যতম অল রাউন্ডার ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করে প্রচুর সুনাম অর্জন করার পাশাপাশি মানিকগঞ্জকেও গৌরবান্বিত করেছেন। বাংলাদেশ টেষ্ট ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুর্জয় বিশ্ব কিক্রেট ইতিহাসে তার নামটা লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।