ঘটনাটি বলিউডের কোনো সিনেমার কাহিনীর মতোই। পড়ালেখা না করার জন্য মায়ের হাতে মার খেয়ে ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল অঙ্কুশ দোমাল। তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। ফেসবুকের কল্যাণে ঠিক তার ১২ বছর পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন হলো তার। খবর এনডিটিভির।
মায়ের সঙ্গে রাগ করে অঙ্কুশ তার বাড়ি মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে ৪শ’ কিলোমিটার দূরে নন্দেদে চলে যায়। সেখানে সে একটি গুরু দুয়ারায় সেবা করতে শুরু করে। তার নিষ্ঠা ও পরিশ্রমে মুগ্ধ হয়ে গুরু তাকে লুধিয়ানায় রেরু সাহেব গুরু দুয়ারায় নিয়ে যান। সেখানে তার নাম দেয়া হয় গুরবান সিং। শিখ হিসাবে জীবনযাপন করলেও অঙ্কুশ মনে মনে তার পরিবারকে খুঁজতে থাকে। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন ছিল চাচার টেলিফোন নাম্বার। তবে এই নাম্বারে সে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। কারণ ততদিনে তার পরিবার বাড়ি বদল করেছে। অঙ্কুশের মা হেমলতা ও দুই বছরের ছোট ভাই সন্তোষও তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ মেলেনি।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অঙ্কুশ ফেসবুকে তার ভাইকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। সন্তোষ নামে সার্চ দিতেই তার সামনে ভেসে ওঠে একই নামের অসংখ্য প্রোফাইল, কিন্তু চেহারার মিলের জন্য অঙ্কুশকে এতো এতো চেহারার ভিড়েও নিজের ভাইকে চিনে নিতে বেগ পেতে হয়নি। বাড়ি ফেরার পর শিখ ধর্মাবলম্বীর বেশ দেখে পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে অঙ্কুশ হিসাবে বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু দোমাল পরিবারের জন্য এটি ছিল এক মধুর মুহূর্ত। অঙ্কুশের মা হাঁটার ভঙ্গি আর মুখে দাগ দেখে তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে চট করে চিনে নেন। অঙ্কুশ এখন পুনেতে তার মা-ভাইসহ পরিবারের সবার সঙ্গে রয়েছে। মা ও ভাই তাকে আর ছাড়তে নারাজ। এদিকে অঙ্কুশও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো ও সঠিক পথে চালানোর জন্য তার গুরুকে ছাড়তে চাইছে না।
