ঈদে জমেনি কলমানি মার্কেট

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৩, ২২:৪১
ঈদের আর বেশিদিন বাকি নেই। প্রতিদিনই নগদ টাকার জন্য ব্যাংকে গ্রাহকের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তারপরও মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার কোনো টানাটানি নেই। যে কারণে আন্ত:ব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকা খাটিয়ে লাভ হচ্ছে না ব্যাংকগুলোর। ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে স্বল্প সময়ের জন্য ধার বা কলমানি সুদের কারবার এবার একেবারেই জমে উঠেনি। অথচ আড়াই বছর আগে ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ছিল মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সঙ্কটের নজিরবিহীন দিন। ওইদিন ১৯০ শতাংশ সুদে কলমানি মার্কেট থেকে টাকা ধার করতে হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নগদ টাকার এ রমরমা কারবার চলেছে পরের বছরও। তবে গত বছর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার হাহাকার থাকলেও কলমানি মার্কেট ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। আমানত টানতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনলেও কলমানি লেনদেন হয়েছে ৭ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে। আর ঈদের আগে তা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। এবার গতকাল পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে সুদের হার সাড়ে আট শতাংশের বেশি ওঠেনি। ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য থাকার কারণেই নগদ টাকার বাজারে সুদের হার বাড়েনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ৭২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য হিসাবে রয়েছে। যদিও এরমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বিল ও বন্ডের মাধ্যমে দেয়া আছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়লেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগের মন্দার কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে অগ্রগতি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ২০ শতাংশ, অথচ ঋণ বেড়েছে মাত্র সাত দশমিক ২০ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ঋণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ঋণ বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ঋণ বেড়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য থাকায় এবার কলমানি মার্কেটে টাকার চাহিদা কিছুটা কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সঙ্কট হবে না। টাকার প্রয়োজন হলে চাহিদামতো সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারে রোজা ও ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন করে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে।