বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিহত চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসানের স্ত্রী ও এই ইউপির উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিরিনা আক্তার দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। তারা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন শিরিনা আক্তারকে বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
প্রার্থীদের অভিযোগ, শিরিনা আক্তারকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে পুলিশ তাদের এবং তাদের কর্মীদের এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বাধা দিচ্ছে। কর্মীদের ভয়ভীতি দিচ্ছে, এমনকি গ্রেফতারও করছে। শিরিনা আক্তারের প্রধান প্রতিপক্ষ হারুন অর রশিদ পুলিশের চাপের মুখে এখনো নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এলাকায় ঢুকতে পারেননি। তবে পাল্টা অভিযোগ করে শিরিনা আক্তার বলেছেন, তার স্বামী হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ হারুন অর রশিদের কর্মীদের কারণে তার জীবন এখন হুমকির মুখে। মঙ্গলবার রাতে তারা জুটাতলা এলাকায় তার উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
আগামী ৩ আগস্ট এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৮ মে চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলে আসনটি শূন্য হয়।
এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান খান জাহিদ হাসান হত্যা মামলার বাদী শিরিনা আক্তার ও এজাহার নামীয় প্রধান আসামি শেখ হারুন অর রশিদ প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। হারুন ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে খান জাহিদ হাসানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। জাহিদ হত্যা মামলায় বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে শিরিনা আক্তারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার একই অভিযোগ করেছেন প্রার্থী মো. মোফাজ্জেল হায়দার ও মুশফিকুজ্জামান রিপন। তারা বলেন, ইউনিয়নের জাড়িয়া, সিংগাতি, পাগলা দিয়াপাড়া, পাগলা শ্যামনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় তাদের কর্মীদের কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে শেখ হারুন অর রশিদসহ অপর প্রার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্লাও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
