রাজধানীর অভিজাত ফ্যাশন হাউজ কুমুদিনীতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে রং করা আর ঐতিহাসিক নকশিকাঁথার সেলাইয়ের পণ্যসামগ্রী নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশীয় ব্র্যান্ড কুমুদিনী ফ্যাশন হাউজ। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে এখানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। কুমুদিনীর বিশেষত্ব হচ্ছে এখানকার পোশাক ও শাড়ির ডিজাইন একটি থেকে অন্যটি একেবারেই ভিন্ন।
কুমুদিনী হ্যান্ডিক্র্যাফটসের যাত্রা ১৯৮৩ সালে শুরু। এর উত্তরোত্তর সাফল্য এক এক করে জন্ম দিয়েছে চারটি শোরুমের। বনানীর ১২ নম্বর সড়কের ই-ব্লকে ১১২ নম্বর বাড়ির দুটি ফ্লোর জুড়ে গড়ে উঠেছে কুমুদিনীর চতুর্থ শোরুম। সেখানে এক ছাদের নীচে পাওয়া যাচ্ছে শাড়ি-চুড়ি, থ্রি-পিস-পাঞ্জাবি ও ঘর সাজানোর যাবতীয় পণ্যসামগ্রী। মূলত মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও গতানুগতিক শিক্ষা থেকে ঝরেপড়াদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কুমুদিনীর প্রতিষ্ঠা। শাড়ি, পোশাক, পাঞ্জাবিতে রয়েছে ভেজিটেবল ডাইয়িং করা কাপড়ের ওপর নকশিকাঁথার কাজ, শেড ওয়ার্ক, এপ্লিক, টাইডাই, প্যাঁচওয়ার্ক, মোমবাটিকের কারুকাজ। রয়েছে বেড কাভার, কুশন কভার, কুশন, ওয়ালম্যাট, টেবিল ম্যাট, চাবির রিং, বই সিডিসহ আরো অনেক কিছু যা অন্যান্য ফ্যাশন হাউজের পণ্যসামগ্রী থেকে একেবারেই আলাদা।
কুমুদিনী হ্যান্ডিক্র্যাফসটের ডিজাইনার প্রদ্যোত কুমার রায় অপু বলেন, ঈদকে ঘিরে আমাদের শাড়ির নতুন ডিজাইন এসেছে ৫০টির মতো। পাঞ্জাবির ডিজাইন এসেছে ৮০টি আর সালোয়ার-কামিজের ডিজাইন এসেছে ৪০টির মতো। তিনি বলেন, শাড়ি-পোশাকের ডিজাইনে শতকরা ৭৫ ভাগ থাকে কুমুদিনীর নিজস্ব ট্র্যাডিশন আর বাকি শতকরা ২৫ ভাগে নতুনত্ব দেয়ার চেষ্টা করি। এভাবে তৈরি হয় কুমুদিনীর পণ্যসামগ্রীর ডিজাইন।
কুমুদিনীর একজন নিয়মিত ক্রেতা ঈশানা জামান বলেন, ঈদের সময় এ ফ্যাশন হাউজ থেকে ও ফ্যাশন হাউজ ঘুরে সময় নষ্ট না করে একবারে কুমুদিনীতে গেলে নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক বা শাড়ি মনের মতোই পাওয়া যায়। তাই এখান থেকেই ড্রেস কিনে থাকি।
কুমুদিনীর ইনচার্জ শিবনাথ চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানে এক্সক্লুসিভ জামদানির দাম পড়বে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্পেশাল সিল্ক নকশিকাঁথা সেলাইয়ের তৈরি এবং এর মধ্যে ব্লকপ্রিন্ট করা শাড়ির দাম পড়বে সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। কটন শাড়ির দাম পড়বে ২ হাজার ২৭৫ টাকা, হাফ সিল্ক শাড়ির দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁতের শাড়ির দাম ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আরো আছে মসলিন কটন শাড়ি, ন্যাচারাল ডাইং-এর ওপর হাফ সিল্ক, টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি, টাঙ্গাইল হাফ সিল্কের এক্সক্লুসিভ সব ডিজাইনের শাড়ি।
ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক, ধুপিয়ান পাঞ্জাবি, রয়েছে ফরমাল শার্ট, ফতুয়া, লুঙ্গি, স্যান্ডেল ইত্যাদি।
পাঞ্জাবি কিনে কুমুদিনী থেকে বেরিয়ে আসেন আদনান পারভেজ। কুমুদিনীর পাঞ্জাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে আদনান বলেন, কাপড় পরে খুব আরাম আর রং ও কারুকাজে রয়েছে গর্জিয়াস লুক যা দেখলে যে কারো ভালো লাগবে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী এখান থেকেই শপিং করেন। তার পছন্দেই মূলত প্রথম কুমুদিনীতে আসা। এখন আমিও নিয়মিত এখান থেকে কেনাকাটা করি।
