ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বরিশালের ঈদ বাজার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪০
রাজধানী ঢাকার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে এখানকার পোশাকের বাজার। আগের মতো এখন আর কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের ঢাকার বড় বিপণী বিতানে ভিড় করতে হয় না। নগরীর চকবাজার, গীর্জামহল্লার ভেনাস মার্কেট, জোহরা মার্কেট, নেক্সট প্লাস, দোয়েল, সোবাহান কমপ্লেক্স, পোশাক বাজার, ফকির কমপ্লেক্সসহ অন্য শপিংমলে তরুণ-তরুণীদের জন্য এবার এসেছে হাল ফ্যাশনের সব পোশাক। নগরীর চক বাজার ও গীর্জামহল্লার বিতণী বিতানগুলো প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের পোশাক বিক্রিতে এগিয়ে আছে। ঢাকার সাথে তাল মিলিয়ে আকর্ষণীয় পোশাক আমদানির পাশাপাশি সরাসরি ভারত থেকে নতুন ডিজাইনের শাড়ি আমদানি করেছে স্ব-দেশী, নিউ স্বদেশী, ময়ুরী ও ঢাকাই বস্ত্রালয়। ঢাকার চেয়ে আকর্ষণীয় নতুন ডিজাইনের শাড়ি তাদের কালেকশনে রয়েছে বলে দোকান মালিকরা দাবি করেন। চকবাজার এলাকার বাটাবাজার, এপেক্সসহ ঢাকার নামী-দামী কোম্পানির শো-রুমে ঢাকার মূল্যেই পাওয়া যাচ্ছে একই জুতা স্যান্ডেল। এ ছাড়া বরিশাল সু-হাউজ, মেট্রো সু হাউজসহ বড় জুতার দোকানগুলোতে চীন থেকে আমদানি করা জুতা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ঢাকার দামেই এসব জুতা চকবাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। শুধু জুতা ও শাড়ি নয় বিদেশি হরেক রকমের পোশাক তরুণ-তরুণীদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে গীর্জামহল্লার ভেনাস মার্কেট, জহুরা মার্কেট, মাহমুদ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর্স, নেক্সট প্লাস, ইউরো ফ্যাশন, ব্যবিলন, দোয়েল ও পোশাক বাজারে। ঢাকার মার্কেটগুলোর মতই এসব মার্কেটে পোশাকের নাম দেয়া হয়েছে হিন্দি সিরিয়াল অনুযায়ী। ঢাকার বিপণী বিতানগুলোতে ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে সব পোশাক বিক্রি হচ্ছে এখানেও একই দামে সেই থ্রি-পিসসহ তরুণীদের পোশাক ও ছেলেদের পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার গীর্জামহল্লা ও সদর রোডসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালের নাম ও চরিত্র অনুযায়ী যেসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে তার দাম সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত। সোবাহান কমপ্লেক্সে আনারকলি পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। ছেলেদের জন্য মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা মাহিশুর, কটন, আসাম ইসকান ও পাকিস্তানী কাবলী পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ১৫শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায়। রাজধানীর মার্কেটগুলোতেও একই দামে এসব পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সব পোশাকেরই শেষ মুহূর্তে বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতারাও আগের মতো আর ঢাকামুখী নয়। একই দামে ঈদের পোশাক এখানে পাওয়া যাওয়ায় তারা ঢাকামুখী হচ্ছেন না। এমনকি উপজেলা শহরগুলোতেও এখন ঈদের পোশাক পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে। নেক্সট প্লাস’র স্বত্বাধিকারী রতন চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় তিনি পাইকারী দরে ঈদের পোশাক সরবরাহ করে থাকেন। খুচরা বিক্রির জন্য হরেক রকমের দামী পোশাক রয়েছে নেক্সট প্লাসে। এছাড়া ভেনাস মার্কেটের দোকানগুলোতে পাঞ্জাবী ও জিন্স প্যান্টসহ ঈদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে ঢাকার দামেই। ঢাকাই বস্ত্রালয়ের মালিক মৃনাল সাহা জানান, চক বাজারের দু’টি দোকান থেকে তিনি খুচরা শাড়ি বিক্রি করলেও ঢাকাই বস্ত্রালয় থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ব্যবসায়ীরা পাইকারী দরে শাড়ি ক্রয় করে নিয়ে যান। এসব জেলা ও উপজেলার পাইকাররা এখন আর শাড়ি ক্রয় করতে ঢাকায় যান না। পরিবহন ব্যয় কম হওয়ায় তারা ভাল লাভ করেন বলে নগরীর পাইকারী দোকানদাররা জানান।