ভোলায় ইলিশের আকাল অলস বসে শত শত ট্রলার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৩
ভোলার মেঘনা ও সাগর মোহনায় ইলিশের আকালের কারণে অর্ধশতাধিক মত্স্য ঘাট সংলগ্ন মেঘনার তীরবর্তী খালে অলস বসে আছে অন্ততঃ দু’ হাজার ট্রলার ও নৌকা। গতকাল বৃহস্পতিবার মেঘনা তীরের এলাকাগুলো ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। জেলেরা জানায়, আর কয়েকদিন পর অমাবশ্যার জোয়ারের অপেক্ষায় আছে ভোলার লক্ষাধিক জেলে। তাদের আশা, পূর্ণিমার জোয়ারে ইলিশ না মিললেও আসন্ন অমাবশ্যার জোয়ারের সময় ধরা পড়বে ইলিশ। ভোলার মেঘনার গুরুত্বপূর্ণ ইলিশা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশা-মেঘনা নদীর সংযোগস্থলে খালের মধ্যে দু’ শতাধিক ট্রলার বাধা রয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলার মত্স্য ঘাটগুলোতে ঘূরে দেখা যায়, এসব ঘাটে আগের মতো জমজমাট ভাব নেই। ইলিশেরও দেখাও নেই । অল্প কিছু ট্রলার নদীতে গেলেও কিছু জাটকা ও দু’-চারটা ইলিশ নিয়ে ফিরছে। ভোলা সদরের মত্স্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার ইলিশের দেশ ভোলা সদরের মেঘনা থেকে শুরু করে চরফ্যাশন-মনপুরা-দৌলতখানের জেলেদের করুণ অবস্থা । তেল খরচ ওঠে না বলে বহু ট্রলার নদীতে যাচ্ছে না। ইলিশা ফেরিঘাটের কয়েকজন জেলে জানায়, ভরা মৌসুমে এমন ইলিশের আকাল তারা আগে কখনো দেখেনি। তাদের মধ্যে বয়বৃদ্ধ জেলে আবুল কালাম (৭০) জানান, মেঘনা ও সাগর মোহনায় ইলিশ শিকারে গেলে অন্তত তিন থেকে চার হাজার টাকার জালানী খরচ হয়। অথচ সারাদিন নদীতে জাল ফেলেও দুই-এক হালির বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লোকসান গুনতে হয় বলে অনেক ট্রলার প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে । তার উপর রয়েছে জলদস্যু আতঙ্ক। তজুমদ্দিনের জেলে হাসেম মাঝি (৪০) জানান, তার সংসারে ছেলে-মেয়েসহ ৮ সদস্য রয়েছে। ইলিশ না পড়ায় এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দৌলতখানের রাধা পল্লবের রহিম মাঝি (৫০), আবু নসর (৪৫) ও আবুল মাঝিকে (৬০) দেখা যায় নদীর পাড়ে পাটি বিছিয়ে তাস খেলছেন। তারা আক্ষেপ করে বলে, নদীতে ব্যাপকভাবে জাটকা নিধন, মাছের রেণু পোনা, ডিম ধ্বংস ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যাপকভাবে ব্যবহারের কারণে ইলিশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা বলে, এইভাবে চলতে থাকলে আমরা খামু কি? দাদনদারদের কাছ থেইক্কা যে দাদন নিছি তা শোধ করুম কেমনে? লালমোহনের চর নিউটন মত্স্য কেন্দ্রের ম্যানেজার জানান, ভোলায় এক সময় ইলিশের এমন ছড়াছড়ি ছিল যে মানুষ ইলিশ উত্সব করত। কিন্তু এখন দ্বীপ জেলার মানুষের কাছে ইলিশ যেন সোনার হরিণ।