র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ

শাহ আলমের লাশ মর্গ থেকে কেউ নেয়নি

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৯
রাজধানীর খিলক্ষেতে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত তারেকসহ দুইজনের লাশের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। র্যাব তাকে শাহ আলম বলে দাবি করলেও পুলিশ মর্গে অজ্ঞাত হিসাবে লাশ পাঠিয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গসূত্র জানিয়েছে, অজ্ঞাত ঐ লাশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গতকাল দুুপুরে ময়না তদন্ত শেষে এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেকের লাশ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই মাহবুবর রহমান। লাশ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পানিউবদা গ্রামে দাফন করা হবে বলে নিহতের পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশ গ্রহণের সময় তারেকের বড় ভাই সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করেননি। বুধবার রাতে খিলক্ষেতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় দুইটি মামলা করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে তারেক ও শাহ আলম নিহত হওয়ায় একটি হত্যা মামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে অপর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এর আগে র্যাবের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত ২ জনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ। বিমানবন্দর থানার ওসি শামসুদ্দিন সালেহ আহমেদ চৌধুরী জানান, শাহ আলমের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ। তবে সুরতহাল রিপোর্টে ঐ ব্যক্তির নাম শাহ আলম লেখা হয়নি। নিহত ঐ ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে পুলিশ অজ্ঞাত হিসাবেই সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। নিহত তারেক গ্রেফতারকৃত আসামি ছিল বলে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুজ্জামানের উপস্থিতিতে এই সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ। এদিকে র্যাব জানিয়েছে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত শাহ আলম যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চলের অন্যতম সহযোগী। শাহ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছিলেন। চঞ্চলের টেন্ডারবাজির ঘটনার সময় শাহ আলম অন্যতম ক্যাডার হিসাবে কাজ করতেন। গতকাল রাত পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পড়ে থাকা শাহ আলমের আর কোন বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সোমবার রাতে গুলশানে শপার্জ ওয়ার্ল্ডের সামনে মিলকী খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার র্যাবের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐ ঘটনায় রিমান্ডে থাকা ৬ আসামি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এ ব্যাপারে গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের সঙ্গে কথা বলেই মামলাটি স্থানান্তর করা হবে।