ফেসবুক আমাদের দিয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। যা ইচ্ছে তাই বলতে পারি। স্ট্যাটাস দিতে পারি। মনের মধ্যে কত কথা কত আকুলি-বিকুলি আমাদের! সেই কথাও ফেসবুকের কল্যাণে পৌঁছে দিচ্ছি সবার কাছে। ফেসবুক আমাদের দিয়েছে যৌবনের শক্তি, দেশে দেশে বিপ্লবে তাই ফেসবুকের জয়গান। হালজামানার এমন সব উত্তপ্ত ঘটনা নিয়ে প্রায়ই গরম হয়ে ওঠে আফ্রিদিদের বাসার ছাদ। সেই আড্ডার নিয়মিত অতিথি প্রাপ্তি, অর্ণব, আকিব, হাসান এমন আরও অনেকে। ফেসবুক নিয়ে তারা সেদিন মেতেছিল আলোচনায়।
প্রাপ্তি :কিছুদিন আগে ফেসবুক বলতে একটা ওয়েব সাইটই বুঝতাম। অথচ এখন তো তা আমাদের জীবন যাপনের একটা পরিসরের নাম। যেন ফেসবুকে আলাদা একটা পরিবার গড়ে উঠেছে আমাদের।
আফ্রিদি :ফেসবুক কিন্তু আমাদের নাগরিক জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তনও নিয়ে এসেছে। আমাদের রোজকার অভিধানে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন শব্দ। বিশেষ করে আমাদের মতো তরুণ বয়সীদের অভিধানে। যেমন আমরা আগে হয়তো ‘নো-কমেন্ট’ কথাটা প্রয়োগ করতাম কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে একটু দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করতে, কিন্তু ফেসবুকের কারণে কমেন্ট শব্দটা হালকা হয়ে গেছে।
অর্ণব :থাম...থাম... কী বক্তৃতা শুরু করলি? তোর না ভালো লাগলে তুই ফেসবুক ব্যবহার করিস না। কেউ তো জোর করে ফেসবুক ব্যবহার করতে বলছে না তোকে।
প্রাপ্তি :আরে না! ভেবে দেখলাম, আফ্রিদির কথাটা একেবারে ফেলার না। ধর, এখন আমাদের যেকোনো ভালোলাগার অভিব্যক্তি প্রকাশ করার ধরনটা খুব হালকা হয়ে গেছে। কেউ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা শেয়ার করল সবার মতামত জানার জন্য, আমরা একটা লাইক মেরে দিয়ে বসে থাকি, কখনোবা কমেন্ট করে দিই সুপার লাইক, কথা হচ্ছে, এখানেই কি সব আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটে গেল?
আকিব :এ ক্ষেত্রে আমারও একটা বক্তব্য আছে। কেউ অনেক দুঃখের স্ট্যাটাস দেয়, কেউ হয়তো কারও অসুস্থতার খবর জানিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে, আজব ব্যাপার হলো, আমরা তাতেও হুট করে লাইক দিয়ে দিই। এটা কোনো কথা হলো?
অর্ণব :ওরে! কি জ্ঞানী-গুণীদের মাঝে এসে পড়লাম! আমি ফেসবুকে খালি মজা করি। চ্যাট করি।
হাসান :খুব তো মজা করিস! একবার যে এক ফেক অ্যাকাউন্টধারীর সাথে পরিচিত হতে যাবি বলে এক ডজন গোলাপ নিয়ে পিত্জা হাটে বসে থাকলি! মজা করতে গিয়ে কি ধরাটাই না খেলি!
অর্ণব :ধরা কি আমার একার জন্যই খেয়েছি? তোরাই তো জোর করে পাঠালি!
প্রাপ্তি :থাক সেসব কথা বলে ওকে আর লজ্জা দিস না। তবে অপরিচিত কারও সাথে বন্ধুত্ব না করাটাই ভালো। এখানে তো ও কেবল দেখা করতে গিয়েছিল। অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও আজকাল কিন্তু ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে। আর প্রতারণার ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।
আফ্রিদি :আর একটা বিষয় আমি উল্লেখ করতে চাচ্ছি—স্ট্যাটাসের মধ্য দিয়েই কিন্তু একজনের অভিরুচি ফুটে ওঠে, তাই অহেতুক একটু পর পর আজেবাজে স্ট্যাটাস দেওয়ার কোনো মানে হয় না।
হাসান :একটা মজার কথা মনে পড়ল। আমার একটা মামা আছে, যার ফেসবুক আইডি হলো, ‘আমি কবি নই’, অথচ সে কিছুক্ষণ পর পরই নতুন নতুন কবিতা উপহার দেয় ফেসবুকবাসীদের, হা...হা...হা...।
প্রাপ্তি :সেটা তো ভালোই, আরও মজার মজার নাম দিয়ে রাখে অনেকে। শুনতে ভালো লাগে, যেমন, জিহাদ হয়তো বিস্কুট পছন্দ করে, ও ফেসবুক আইডিতে নাম দিবে—বিস্কুট পাগলা জিহাদ।
আকিব :বন্ধুদের সাথে মজা করার জন্য আমরা মজার মজার নাম দিই ঠিক আছে। যেমন হাজার হাজার পাবলিক নিজেকে ‘অ্যাঞ্জেল’, ‘প্রিন্স’ বা ‘প্রিন্সেস’ এসব নামে পরিচয় দেয়। কিন্তু আমার মনে হয়, ফেসবুক প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট। এখানে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত তথ্য সুন্দরভাবে থাকা উচিত।
অর্ণব :বিশিষ্ট সব ব্যক্তিদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শুনলাম! তোরা নিজেরাই কেন ফেসবুক পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিস না?
আফ্রিদি :দেখ ওভাবে বলার মতো কিছুই হয়নি। আমরা শুধু এটাই বলতে চাইছি। ফেসবুক অবশ্যই আমাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত। যেকোনো প্রযুক্তিরই অপব্যবহার আমাদের জন্য অকল্যাণকর।
