পাবনার চাটমোহরে পৌর শহরের দোলবেদীতলা স্বর্ণকার পট্টিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি স্বর্ণের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতদল ককটেল ফাটিয়ে, ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতদের অস্ত্রাঘাত ও ককটেল বিস্ফোরণে দোকান মালিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। চাটমোহর পৌর এলাকার স্বর্ণপট্টির সন্দ্বীপ জুয়েলার্সে সশস্ত্র এই ডাকাতি সংঘটিত হয়। দোকান মালিক সন্দ্বীপ কর্মকার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে (ইফতারীর সময়) ৮/১০ জন সশস্ত্র ডাকাত স্বর্ণকার পট্টির সন্দ্বীপ জুয়েলার্সে ঢুকে অস্ত্রের মুখে দোকান মালিক ও কর্মচারীকে জিম্মি করে ১১৪ ভরি সোনার গহনা লুট করে ।
এ সময় বাধা দিলে ডাকাতরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দোকান মালিক সন্দ্বীপ কর্মকারকে (৪৫) আহত করে। চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতি এ ঘটনার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করে। পরে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি একেএম সাইদুল হক কিসলু। বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী নেতা মোখলেসুর রহমান বিদ্যুত্, রকিবুল হাসান মিলু, জয়দেব কুন্ডু গনো, রিন্টু দত্ত, হাজী মোজাম্মেল হক, মোতালেব হোসেন, শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু প্রমুখ। এ সময় একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন পৌর মেয়র হাসাদুল ইসলাম হীরা। পাবনার পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন, চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার চাটমোহর জুয়েলারী সমিতি আধাবেলা ধর্মঘট পালন করে। ধর্মঘট চলাকালে জুয়েলারী সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা থানার অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করে। পরে জুয়েলারী সমিতির একটি প্রতিনিধি দল থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সির সাথে সাক্ষাত্ করেন। তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। থানার ওসি সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন।
