ফ্যাশন হাউস থেকে ফুটপাত ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫২
জমে উঠেছে সিলেটের ঈদ বাজার। দিনে-রাতে সমানতালে চলছে বিকিকিনি। মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীর মার্কেট, ফুটপাত এখন ঈদের কেনাকাটায় সরগরম। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ ছুটে বেড়াচ্ছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। ব্যবসায়ীরা জানালেন, ঈদ বাজার জমে উঠেছে। বিকিকিনি ভালো হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ দাম নিয়ে। তারা জানান, প্রতিটি জিনিসের দামই চড়া। তাই সাধ আর সাধ্যের হিসেব মেলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বন্দরবাজারের করিম উল্লাহ মার্কেট, হাসান মার্কেট, জিন্দাবাজারের মধুবন মার্কেট, সিলেট প্লাজা, শুকরিয়া মার্কেট, কাকলি শপিং সিটি, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, মিলেনিয়াম মার্কেট, সিটি সেন্টার, আল হামরা, মানরু শপিং সিটিসহ বড় বড় সব মার্কেটে ব্যবসায়ীরা ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, জুতাসহ অন্যান্য পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। বিক্রেতারা জানান, শিশুদের পোশাক, শাড়ি, থ্রিপিস ও ছেলেদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে বেশি। এদিকে নগরীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ব্র্যান্ডশপগুলোতে ভিড় করছেন তরুণ-তরুণীরা। মধ্যরাত পর্যন্ত এসব দোকানে জমজমাট বিকিকিনি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, তরুণীদের বেশিরভাগের পছন্দ লং ড্রেস। ভারতীয়, পাকিস্তানি ও দেশীয় লং ড্রেস বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্যবার চটকদার নানা নামের ড্রেস নিয়ে হইচই হতো। কিন্তু এবার নাম নয়, পোশাকের মান দেখে কিনছেন ক্রেতারা। গরমের সময় ঈদ হওয়ায় সব ক্রেতারই নজর আরামদায়ক পোশাকের প্রতি। নগরীর নয়াসড়কে আড়ং, মনোরম, মাহা, কাশিস, কমলাভান্ডার, শী, রমণী, পাপাই, মাম্মি, পিননসহ সকল ফ্যাশন হাউসে দেদারছে বিকিকিনি হচ্ছে। মাহার ম্যানেজার শিপা জানান, এবার ঈদে দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের কাপড় তারা নিয়ে এসেছেন। এগুলোর প্রচুর চাহিদা। মেয়েদের লং ড্রেস ৪ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিশুদের পোশাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। মনোরম এর স্বত্বাধিকারী চৌধুরী মোহাম্মদ সুহেল জানান, তরুণ-তরুণীদের জন্য একেবারে নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি রয়েছে তার ফ্যাশন হাউসে। এগুলোর কাটতিও ভালো। ঈদ বাজার জমে ওঠায় ব্যবসায়ীরা খুশি। এদিকে ঈদে নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটার ভরসাস্থল ফুটপাতে চলছে চাঁদাবাজির মহোত্সব। সামান্য পুঁজির ভাসমান ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে ব্যবসা করতে গিয়ে দফায় দফায় চাঁদা দিয়ে ফতুর হচ্ছেন। এরপরও ফুটপাতে চলছে গরীব মানুষের ঈদ মার্কেট। সূত্র জানায়, পুলিশের পাশাপাশি মৌসুমী অপরাধীরাও ফুটপাত কেন্দ্রিক চাঁদাবাজিতে সক্রিয়। সেই সাথে সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদে প্রায় কোটি টাকা আয়ের ফন্দি নিয়ে এখন তত্পর এই চাঁদাবাজ চক্র। এ কারণে নগরীর স্থায়ী ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদমুখর হলেও ফুটপাত থেকে ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। ফুটপাত থেকে ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে অর্থমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই তা আমলে নিচ্ছে না। ‘ফুটপাত বাণিজ্য’র কারণে নগরীতে যানজটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। একাধিক হকার্স সমিতি সূত্রে জানা যায়, নগরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতে ১০ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ভাসমান ব্যবসায়ী বিভিন্ন পণ্যের দোকান খুলে ব্যবসা করছে। এসব ভাসমান ব্যবসায়ী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, এয়াপোর্ট রোড, সুবিদবাজার, সিটি পয়েন্ট, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, মেডিকেল রোড, পাঠানটোলা, রিকাবীবাজার, কাজীরবাজার, দক্ষিণ সুরমা, ভার্তখলা, স্টেশন রোডসহ অর্ধশতাধিক সড়কে ব্যবসা করছে। বিনিময়ে তারা প্রতিদিন দিচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা (বখরা)। একজন ভাসমান ব্যবসায়ীকে এলাকাভিত্তিক প্রতিদিন ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বখরা দিতে হয়। নিয়মিত বখরা আদায় করে পুলিশ ও স্থানীয় ক্যাডাররা। ঈদ উপলক্ষে চাঁদাবাজ চক্র চাঁদার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।