বাংলাদেশে ‘হস্তক্ষেপ’ চেয়েছে পাকিস্তান জামায়াত

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
পাকিস্তান জামায়াতের আমির সৈয়দ মুনাওয়ার হাসান গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ আক্রান্ত হচ্ছে। নেতাদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হচ্ছে।’ দলটির সাবেক আমির গোলাম আযম ও তার সহযোগীদের ওপর দেশটির সরকারের আক্রমণের বিরুদ্ধে শুধু মৌখিক প্রতিবাদ নয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কবল থেকে তাদের মুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববাসী, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজ ডট টিভি’র এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সম্প্রতি এক রিট আবেদনের রায়ে হাইকোর্ট রাজনৈতিক দল হিসাবে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে। এই রায়ের ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সৈয়দ মুনাওয়ারকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের দি নিউজ লিখেছে, আদালতের এই রায়কে ‘অসাংবিধানিক ও পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যায়িত করে বাংলাদেশের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ভারতপন্থী হাসিনা ওয়াজেদ সরকারের’ প্রতিহিংসা রোধে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে ভূমিকা রাখার আবেদন জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির। মুনওয়ার তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এতোদিন তথাকথিত ট্রাইব্যুনাল এ কাজ করলেও এখন একই কাজে নেমেছে হাইকোর্ট। নির্বাচন থেকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে দূরে রাখতেই নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘জামায়াত বাংলাদেশের ক্ষমতায়ও ছিল। তাই দলটির নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করে দেয়া ঢাকা হাইকোর্টে রায় গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার হত্যার সামিল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে ফিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব নেন গোলাম আযম। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে চলতি মাসেই এক রায়ে তাকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের এই বিচারকে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলায় পাকিস্তান সরকারেরও সমালোচনা করেছেন জামায়াত আমির মুনাওয়ার। তার ভাষায়, পাকিস্তান সরকারের এই অবস্থান ‘জঘন্য অন্যায়’ ও ‘পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত’। একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন’ বানচাল করতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সমর্থন এবং পাকিস্তানকে ‘ঐক্যবদ্ধ রাখার সংগ্রামে’র জন্যই বাংলাদেশে জামায়াত নেতাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে বলে বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, উপমহাদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় রাজনীতিক মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ নামে দলটির যাত্রা শুরু হয় বলে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।