[ প্রশাসন ]

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে শূন্যপদে পদোন্নতি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৭
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে ৩৪৫ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদের মধ্যে ৩২৬ জনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৮ জুলাই জারি করেছে। এদের সবাইকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯ জন লিয়েনে থাকায় লিয়েন শেষে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাদের পদোন্নতি কার্যকর করা হবে। এই পদোন্নতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক. শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতিতে প্রশাসনিক শৃংখলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ; খ. রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি প্রদান, যা নির্দলীয়, সত্ ও নিরীহ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করেছে। ১৯ জুলাইয়ের দৈনিক ইত্তেফাকে বলা হয়েছে, যুগ্মসচিবের অনুমোদিত ৩৬৮টি পদের একটিও শূন্য নেই। বরং আড়াইশ’ কর্মকর্তা আগে থেকেই অতিরিক্ত রয়েছেন। সে হিসেবে যুগ্মসচিবের ৩৬৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে এ মুহূর্তে যুগ্মসচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৪ জনে। লিয়েনে থাকা ১৯ জনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে যুগ্মসচিবের সংখ্যা হবে ৭১৩ জন, অর্থাত্ অনুমোদিত পদের প্রায় দ্বিগুণ। পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়েছে, যুগ্মসচিব পদে ৩৪৫ জনের পদোন্নতি একটি রেকর্ড। বর্তমান সরকার বা তার আগে অন্য কোন সরকার একসঙ্গে এত সংখ্যক কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়নি। ১৯ জুলাইয়ের যুগান্তরে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে এর আগে যুগ্মসচিব পদে ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি দেয়া হয় ২৭১ জন, ২০১০ সালের ২১ নভেম্বর ১৫৮ জন ও গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি ২৬৪ জন। একই তারিখের দ্য ডেইলি স্টারে যা বলা হয়েছে সংক্ষেপে তা হলো, যখন যুগ্মসচিবের ২৫০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬২৫ জন কর্মরত রয়েছেন, তখন শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ৩৪৫ উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হলো। সুতরাং পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নতুন পোস্টিং পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কোনো কোনো পত্র-পত্রিকায় এবারের পদোন্নতিকে সরকারের ‘শেষ সময়ের নির্বাচনী পদোন্নতি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পদোন্নতি প্রাপ্তদের সিংহভাগ ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হলেও ‘বেশ কিছু চিহ্নিত ও প্রভাবশালী বিএনপি সমর্থক কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।’ তবে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন নির্দলীয়, সত্ ও নিরীহ কর্মকর্তারা। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এদের সংখ্যা ৩৫৪ জন। কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এ শর্তগুলোর মধ্যে একদিকে রয়েছে পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তার দক্ষতা, সততা, কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সহায়তা না করা এবং অন্যদিকে রয়েছে পদোন্নতির জন্য শূন্যপদের প্রাপ্যতা। সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির এসব নিয়ামক আমরা ভারত উপমহাদেশে বৃটিশ শাসন ব্যবস্থা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। পাকিস্তান আমলেও পদোন্নতিতে এসব নিয়ামকের ব্যত্যয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্বাধীনতার পর থেকে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত ‘প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদগুলোতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যাপারে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেও বিএনপির শাসনামলে ১৯৯২ সালে এসব পদে পদোন্নতিতে বড় ধরনের বিশৃংখলার শুরু হয়। অনেকের মতে, প্রশাসনকে দলীয়করণেরও এটি ছিল প্রথম সুপরিকল্পিত বড় পদক্ষেপ। তবে কেউ কেউ মনে করেন, স্বাধীনতার পর পরই তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য পদে চাকরি প্রদান ছিল প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রথম পদক্ষেপ। এদের অধিকাংশ কর্মকর্তা প্রশাসনে ‘আওয়ামীপন্থি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এসব কর্মকর্তা প্রশাসনে নানা ধরনের সুবিধা পেয়েছেন। অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি গণআন্দোলনে রূপ নিলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচ, এম, এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের এক বছর পার না হতেই প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি করতে এবং পরবতী সাধারণ নির্বাচনের সময় তা কাজে লাগাতে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে শাতশ’র বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়। কেবল যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। একসঙ্গে সচিবালয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে এর আগে পদোন্নতি প্রদানের নজির ছিল না। ফলে এটি একটি মুখরোচক গল্প পরিণত হয়। দলীয়করণের অভিযোগ ছাড়াও পত্র-পত্রিকায় এ পদোন্নতিকে ‘গণপদোন্নতি’বলে অভিহিত করা হয়। এছাড়া শূন্যপদ ব্যতীত পদোন্নতি দেয়া যায় না-প্রশাসনিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এ নিয়মটির এখানে ব্যত্যয় ঘটানো হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকায় বহুসংখ্যক কর্মকর্তাকে, বিশেষ করে উপসচিব ও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে, কমবেশি এক বছর পর্যন্ত ওএসডি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে (তত্কালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) ফেলা রাখা হয়। তারা বেতন-ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধাদি ভোগ করলেও তাদের কোন কাজ দেয়া হয়নি। ফলে ঘটে সরকারি অর্থের অপচয়। ১৯৯২ সালে বিএনপি প্রয়োজনীয় শূন্যপদ ছাড়াই অনেকটা ‘গণপদোন্নতির’ যে নজির সৃষ্টি করে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা যত্নসহকারে অনুসরণ করে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতি ও প্রশাসনে দলীয়করণের গতিকে জোরদার করে। এছাড়া স্বাধীনতার পর চাকরিতে নিয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা আওয়ামীপন্থি হিসেবে বহুল পরিচিত, তাদের চাকরি হতে অবসর প্রদান করে। এখানেই শেষ নয়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নেয়। নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দসই লোক রাখতে প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বিকল্প কর্মকর্তার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, যাতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হলেও তাদের নিজেদের লোক এসব পদে থাকে। বহুল আলোচিত ১/১১-এর কারণে তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ ছাড়াই ‘প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে’ উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি প্রদান এবং দলীয়করণের ধারা অব্যাহত রাখে। ক্ষমতা গ্রহণের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হতেই ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ ছাড়াই সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবপদে ৪৯৪ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয় (অতিরিক্ত সচিব পদে ৬০ জন, যুগ্মসচিব পদে ১৬৩ জন এবং উপসচিব পদে ২৭১ জন)। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পদোন্নতির ফলে অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত ১০৮টি এবং যুগ্মসচিবের অনুমোদিত ৪৩০টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়ালো যথাক্রমে ১৮৬ জন ও ৪৯৮ জনে। উপসচিবের অনুমোদিত ৮৫৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মকর্তার সংখ্যা আগেই দাঁড়িয়েছিল ১,৩১৭ জনে। এখন আরো ২৭১ জন যোগ হলো। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপসচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব পদে প্রায় সাতশ’কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। শূন্যপদের অভাবে তাদের অধিকাংশকে পদোন্নতিপূর্ব পদে পদায়ন করা হয়। শূন্যপদ ছাড়াই পদোন্নতি প্রদানের সর্বশেষ উদাহরণ গত ১৮ জুলাই তিনশ’র অধিক উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদান। তাছাড়া, এবার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ প্রশাসনে দলীয়করণকে জোরদার করতে ‘আওয়ামীপন্থি’ হিসেবে পরিচিত যেসব মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে বিএনপি অবসর প্রদান করেছিল বা আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী যারা স্বাভাবিক নিয়মে অবসর গ্রহণ করেছিলেন,তাদের অনেককে স্বায়ত্তশাসিত, আধা- স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের অনেককে নিয়োগ দেয়া হয় বিভিন্ন কমিশনে। শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি প্রদান এবং প্রশাসনকে দলীয়করণের ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল-এক. শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি প্রদান প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পদের অভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে ওএসডি বা কর্মহীন অবস্থায় ফেলে রাখা দক্ষ জনশক্তি ও অর্থের অপচয়। এটি সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দুই. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, শূন্য পদ না থাকায় ১৮ জুলাই যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আগের পদেই থাকতে হবে। এর ফলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেশ কিছুদিন তাদের সমমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হবে। এতে একদিকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা কমে যেতে পারে এবং অন্যদিকে আশংকা রয়েছে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার। এছাড়া, কোন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে তাকে পদোন্নতিপূর্ব পদের দায়িত্ব পালন করতে বলা প্রশাসনে প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার পরিপন্থি। প্রশাসনিক নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা তার এক বা দুই ধাপ ওপরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রশাসনিক ভাষায় একে বলা হয় চলতি দায়িত্ব পালন। তিন. শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও একসঙ্গে অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রদানকে ক্ষমতাসীন দল বা জোট তাদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এর সঙ্গে প্রশাসনকে দলীয়করণের একটি বাসনা লুকানো থাকে। চার. মন্ত্রণালয় / বিভাগের অধীনে রয়েছে অধিদফতর, পরিদফতর, কর্পোরেশন ইত্যাদি। সচিবালয়ের মাঝারি বা ওপরের স্তরে শূন্যপদ না থাকার পরও পদোন্নতি দেয়া হলে তার প্রভাব এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় পড়তে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় শূন্যপদ না থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কখনও পদোন্নতি প্রদানে রাজি হয় না। শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও যদি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পদোন্নতি প্রদানের দাবি ওঠে, তখন মন্ত্রণালয়গুলো কী করবে? পাঁচ. সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম শর্ত দক্ষ, নিরপেক্ষ ও গণমুখী প্রশাসন। এটা সম্ভব হবে যদি দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্পন্ন করা যায় এবং প্রশাসনকে সরকারি সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়নে সুযোগ দেয়া হয়। প্রশাসন দলীয়করণ করা করা হলে একদিকে অদক্ষতা ও দুর্নীতি বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে সরকারের সেবাধর্মী ও দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মকাণ্ডের সুফল টার্গেট গ্রুপের নিকট সঠিকভাবে পৌঁছাবে না। প্রশাসন দলীয়করণ করা হলে তা গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশেও সহায়ক হবে না। সবশেষে যা বলা দরকার তা হলো, প্রশাসনে শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবসান ঘটুক শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতির। সুশাসন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রশাসন দলীয়করণে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিযোগিতা বন্ধ হোক। লেখক :সাবেক সচিব E-mail:[email protected]