ফ্যাশনের রাজপুত্র জন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫১
পশ্চিমা ফ্যাশনের কথা এলে জনের নামটা উঠে আসবে সবার আগে। অবশ্য এই পরিচিতির কারণও আছে। তিনি হলেন আমাদের এই প্রজন্মের জন্য ফ্যাশন জগতের বিশেষ প্রতিনিধি। একজন স্টাইল আইকন হিসেবে ফ্যাশন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম জন ড্রেপার নামের একটি ফ্যাশন শোয়ের মাধ্যমে তার উঠে আসা। এটা একটি অ্যাডভার্টাইজিং কোম্পানির আয়োজনে করা হয়েছিল। এরপর শুরু হলো তার ফ্যাশন জগতের পথে যাত্রা। জনের ক্যারিয়ারের সফল অধ্যায়টির থেকে একটু পেছন ফিরে তাকালে পাওয়া যাবে তার নানা চড়াই উত্রাই পাড়ি দেওয়ার গল্প। তার বয়স যখন ১৪ বছর, তিনি প্রথমবারের মতো ফ্যাশন জগতের সাথে পরিচিত হন। তিনি ১৬ বছর বয়সে এসে নিউ ইয়র্কের একটি ফ্যাশন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। এর আগে তিনি আর্ট অ্যান্ড হিস্টোরি বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। তবে সেখানে তিনি এক বছর গ্যাপ দিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ফ্যাশন জগত্ নিয়ে বেশি মেতে উঠেছিলেন। তিনি নিজের একটি ফ্যাশন হাউস দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি এই ফ্যাশন হাউসের জন্য একাই ক্যাম্পেইন করতেন। এভাবে অবিরাম চেষ্টার পর তিনি পরিশ্রমে ফল হাতে নাতে পান। এরপর তিনি স্টুডিও ফিফটি ফোর নামের একটি ফ্যাশন হাউস ওপেন করেন। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন তার বেস্ট ক্লাব ডিজাইনের জন্য। একটি ডিসকো ক্লাবের জন্য পোশাক ডিজাইন করেছিলেন জন। সেখান থেকেই তার শুরু। এরপর তিনি বেশকিছু ফ্যাশন হাউসের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে প্যারিসের কিছু ফ্যাশন হাউসও ছিল। একসময় তিনি প্যারিস চলে যান ইন্টার্নশিপের জন্য। তিনি প্রায় এক বছরের মতো সময় এই ফ্যাশন স্কুলটির পিছনে ব্যয় করেছিলেন। এরপর তিনি আবার আমেরিকাতে ফিরে এসে ফ্যাশনের উপর পড়াশোনা শেষ করেন। ২০০৫ সালের এপ্রিলে তিনি তার নিজস্ব একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ঘোষণা দেন। নাম দেন জন হ্যাম ব্র্যান্ড। সেখানে তার সাথে গুচি ব্র্যান্ডের চুক্তি হয়েছিল। এ ছাড়াও তিনি ডমিনিকো ডি সোল নামের একটি কোম্পানির সিইও পদটি দখল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। একসময় তিনি পার্টনারশিপ বিজনেস শুরু করেন। তিনি মারকোলিন গ্রুপের প্রেসিডেন্টের সাথে মিলে শুরু করেন এস্টি লাউজার নামের একটি বিউটি ব্র্যান্ড। সম্প্রতি তিনি অ্যানাদার ম্যানের জন্য কাজ করেছেন। বেশকিছু ন্যাশনাল ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড তার ঝুলিতে রয়েছে। তিনি বেশকিছু টেলিভিশন শোতেও পারফর্ম করেছেন। বাবা-মায়ের কারণে ছোটবেলা থেকেই এই জগতটি নিয়ে মেতেছিলেন তিনি। আমেরিকার স্ট্যাপহ্যান ন্যাশনাল স্কুল অব ফ্যাশন ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন তিনি। ২০১০ সালে তিনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। শেষ করে আর বসে থাকেননি। শুরু করেন মডেলিং। সেই সাথে মনোযোগ দেন বিভিন্ন ফ্যাশন শোগুলোতে। একসময় এসব জিনিস তাকে তেমন আর আকর্ষণ করেনি। শুরু করেন ফ্যাশন ডিজাইনিং। তবে এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছিলেন তিনি। এই ছিল তার শুরুর গল্প। যারা ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে জন বলেন, ‘ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। প্রয়োজন পড়াশোনা আর প্রয়োজন প্রচুর অভিজ্ঞতা। এই লাইনে এ জন্য কিছু স্বপ্লমেয়াদি কোর্স রয়েছে, রয়েছে ডিপ্লোমা। ফ্যাশন ডিজাইনারদের শেখার কোনো শেষ নেই। ফ্যাশন ডিজাইন শুধু কাপড় কাটা আর সেলাই করা নয়। এজন্য একটি বড় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। কাপড়ের ব্যবহার, রঙের ব্যবহার, বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার, শরীরের মাপ, দেশীয় ফ্যাশন, দেশের বাইরের ফ্যাশন এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে অনেক বেশি ধারণা থাকতে হবে। নিজের ভেতরও কিছু বাড়তি গুণাগুণ থাকতে হবে।’ এই কথাগুলোর প্রমাণ পাওয়া যায় তার কাজে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি ফ্যাশনের উপর। তার প্রথম ফ্যাশন উইকটি ছিল ল্যাকমি ফ্যাশন উইক। সামার এ আন্ডার ১০ ক্যাটাগরিতে তিনি ফ্যাশন প্রদশর্নের জন্য পুরস্কারও পান। মোস্ট প্রমিসিং ডিজাইনার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পান তিনি। গত বছর তিনি ইউলস লাইফস্টাইল ফ্যাশন উইক ২০১২-এ স্থান পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের ৮টি স্টোরের লিডিং রিটেইলার হিসেবে কাজ করছেন। তার তৈরিকৃত পোশাকে বিভিন্ন সিনেমার অভিনেত্রীরা হয়ে উঠেন ঝলমলে। আমেরিকাতে একটি জাঁকজমকপূর্ণ দোকানও চালু করেছেন তিনি। সে বছর ল্যাকমি ফ্যাশন শোতে উপস্থিত হয়েছিলেন অনেক তারকারা। সেখানে একেবারে সামনের সারিতে বসে গর্বভরা চোখে তাদের আদরের ছেলের শো উপভোগ করেছেন তার বাবা-মাও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা দুজন একসঙ্গে আমার শো দেখতে আসবেন, এমনটা আমি বহুদিন যাবত চাইছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতায় তা হয়ে উঠছিলো না। শেষ পর্যন্ত তারা এলেন, আমি রীতিমতো আপ্লুত।’