প্রজন্মের জনসংযোগ কর্মকর্তা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫২
জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ইংরেজিতে বলা হয় পাবলিক রিলেশন অফিসার। সংক্ষেপে পিআরও। পিআরও বা জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজই হচ্ছে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা। জনসংযোগ বলতে বুঝায় জনসাধারণের সঙ্গে কোনো পণ্য বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া, অর্থাত্ কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজ কিংবা কোনো উদ্দেশ্যে জনসমর্থন জোগার করা। বস্তুত জনসংযোগের উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানো তথা বাজার তৈরি করা, পুরাতন গ্রাহক ধরে রাখা এবং নতুন ভোক্তা বা ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা। নিজের যোগাযোগের দক্ষতার মাধ্যমে এই পদে নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে হয়। এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী জনসংযোগ কর্মকর্তাদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। আয়োজন গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র মোফাকখারুল ইকবাল সিনিয়র তথ্য অফিসার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মোফাকখারুল ইকবাল ডাক নাম :ইকবাল মায়ের নাম :আখতার বানু বাবার নাম :সিরাজুল হক প্রথম স্কুল :মাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট প্রিয় উক্তি :পরিশ্রমেই সফলতা আসে। অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, টিভি দেখে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম। বই পড়তে খুব ভালোবাসেন তিনি। নিজেই একটা লাইব্রেরি বানিয়ে নিয়েছেন তাই। অবসরে সেখানেই ডুবে থাকেন। আর বই পড়ার অভ্যাসটা তার অনেক আগের বলতে হবে। বই পড়ার পাশাপাশি মানুষের সাথে মিশতেও খুব পছন্দ করেন। আর এ কারণেই বিসিএস-এ প্রথম পছন্দেই তিনি রেখেছিলেন তথ্যকে। মানুষের মাঝে অবাধ তথ্য সরবরাহের কাজ করে যেতে চান তিনি। বলছি মোফাকখারুল ইকবালের কথা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগের বিষয়টি দেখেন তিনি। ইকবাল মনে করেন, ‘যোগাযোগ’ শব্দটি এখন চলমান বিশ্বের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সমাজ ও সভ্যতার চমক লাগানো অগ্রগতির মূলে রয়েছে ওই একটা শব্দ—যোগাযোগ। রাষ্ট্রের উন্নতি যেমন যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে, ঠিক তেমনি ব্যক্তির উন্নতির চাবিকাঠিও এই যোগাযোগের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যেকারণে এখন বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও কর্পোরেট হাউসগুলোতে জনসংযোগ বিভাগ ও জনসংযোগ কর্মকর্তাদের চাহিদা দিনে দিনে কেবলই বেড়ে চলেছে। পেশা হিসেবে জনসংযোগ হয়ে উঠেছে দামী ও আকর্ষণীয়। আর এই কাজটা তিনি নিজেও দারুণ উপভোগ করেন। এর মাধ্যমে জনগণের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হয়। আর তিনি যেহেতু সরকারি দপ্তরে কাজ করেন, সরকারের তথ্যগুলোও জনগণকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা তার উপর বর্তায়। ইকবাল জানাচ্ছিলেন তার কাজ সম্পর্কে, ‘অফিসের অভ্যন্তরের সকল বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজের একটা অন্যতম দিক। এক্ষেত্রে অফিসের কোন বিভাগের কী কাজ, কারা কারা জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজের ধারায় পড়ে সেটা নির্ধারণ করতে হবে আগে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সকল ধরনের তথ্য যা অন্যকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রয়োজন হতে পারে, তা সংরক্ষণ জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি ও রক্ষার জন্য পরিকল্পনা তৈরি ও সমন্বয় করা জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ। সব মিলিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের প্রচারের প্রতি মনোযোগী হবেন এবং কোম্পানির সব রকম যোগাযোগের দায়িত্বে থাকবেন। আর এই কাজটা পুরোটাই সাধারণ মানুষকে ঘিরে হয়ে থাকে সব সময়ই।’ নতুনদের উদ্দেশ্যে ইকবাল বলেন, ‘আপনি যদি একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা হতে চান, তবে আপনার মধ্যে কিছু দক্ষতা ও গুণের পরিচর্যা অবশ্যই প্রয়োজন। আপনাকে অবশ্যই সাংগঠনিক কাজে দক্ষ হতে হবে। বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। সবধরনের লোকজনের সঙ্গে সহজে মেশার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। সুন্দরভাবে কথা বলার দক্ষতা ও কষ্ট সহ্য করে কাজ করার প্রবণতা থাকতে হবে। সংক্ষিপ্তভাবে অন্যকে প্ররোচিত করার মতো দক্ষতা থাকতে হবে। এই গুণগুলো থাকলেই যে কেউই এই পেশায় ভালো করতে পারবে।’ জনসংযোগের সফল এই মানুষটার জন্ম কুমিল্লায়। তিতাস নদীর পাড়ে এক গ্রামে কেটেছে শৈশবের উচ্ছল দিনগুলো। সেখান থেকেই স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে নেন। অর্থনীতিতে স্নাতক-স্নাতোকোত্তর শেষ করে সরাসরি তথ্য ক্যাডারে কাজের সুযোগ করে নেন তিনি। আর এখন তো একটি মন্ত্রণালয়ের হয়েই কাজ করছেন। ইকবালের বাবা-মা এখন আর নেই, কিন্তু তাদের সহায়তা তাকে আজকে এই পর্যায়ে আসতে অনেক সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। ঢাকায় এখন স্ত্রী তাসনিমা বেগম নীলা আর আদরের কন্যা মাশিয়াত অভ্রকে নিয়েই কাটে তার সারাদিন। অবসরে মেয়েকে সময় দেন অথবা হারিয়ে যান কোনো বইয়ের জগতে। তিনি তার পথ ধরে এগিয়ে যাবেন অনেকদূর, তার জন্য সেই শুভ কামনা। জিয়া মহিউদ্দিন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন জিয়া মহিউদ্দিন ডাকনাম :জিয়া জন্মতারিখ ও স্থান :৫ই মে, ঢাকা মায়ের নাম :রিফাত রশীদ বাবার নাম :আ.ফ.ম গোলাম মহিউদ্দিন প্রথম স্কুল :সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি সড়ুল প্রিয় মানুষ :আমার বাবা প্রিয় উক্তি :Nothnig is impossible, impossible is i am possible. প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, আড্ডা দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। জনসংযোগ একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ সেক্টরে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, কারণ এখন আমাদের দেশে প্রচুর কর্পোরেট হাউস হচ্ছে, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য আবশ্যিকভাবে প্রয়োজন পাবলিক রিলেশন সেকশন অর্থাত্ জনসংযোগ বিভাগ। কাজের অনেক সুযোগের কথা জানাচ্ছিলেন জিয়া মহিউদ্দিন, যিনি পাঁচ তারকা হোটেল রূপসী বাংলার জনসংযোগের বিষয়টা দেখছেন এখন। জিয়া মহিউদ্দিন অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে কাজ করার মাধ্যমে সরাসরি এই পেশায় আসেন ২০০৪ সালের দিকে। তারপর থেকে নানা বাধা-বিপত্তি পার করেই আজকের এই অবস্থানে। সব মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার এই পেশা দারুণ উপভোগ করেন তিনি এখন। নতুনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি বাড়ানোর জন্য জনসংযোগ খুবই জরুরি। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিনিয়ত যে প্রতিযোগিতা সে প্রতিযোগিতায় জনসংযোগ একটি বড় ফ্যাক্টর। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে, কিভাবে প্রতিষ্ঠানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে পারে জনসংযোগ বিভাগ। এ জন্য এর গুরুত্বও বেশি। প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলতার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনসংযোগ কর্মকর্তা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জনসংযোগ কর্মকর্তা যেহেতু প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন সেহেতু তারও সুযোগ থাকে নিজের ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করার। যার ফলে বিভিন্ন জায়গায় আরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।’ তাই প্রতিটি কাজই দায়িত্বসচেতনতার সাথে করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রজন্মের এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘সফল জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ হলো যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন। সেই সঙ্গে কমিউনিকেশন দ্বারা একটি পজেটিভ রেসপন্স পাওয়া। আসলে কোম্পানির উন্নয়নের স্বার্থে এবং স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলার জন্য যেসব যোগাযোগ দরকার একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাকে সফলভাবে তা সম্পন্ন করতে হবে। এটাই তার মূল কাজ। একজন সফল জনসংযোগ কর্মকর্তাকে হতে হবে স্পষ্টবাদী। যেহেতু কথা বলাই একজন পাবলিক রিলেশনস কর্মকর্তার মূলশক্তি, তাই তাকে কথা বলতে জানতে হবে। একজন মানুষের সঙ্গে প্রথম দর্শনেই তার মধ্যে যেন ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। যেকোনো সময়ে যেকোনো রকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করার মতো মানসিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদানের কৌশল শিখতে হবে। আর সার্বিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সব সময় আপ টু ডেট জ্ঞান ও ধারণা থাকতে হবে। এ পেশায় যারা যোগ দিতে চান তাদের মনে রাখতে হবে—এ পেশাটি শতভাগ চ্যালেঞ্জিং। এখানে কাজের যোগ্যতাটাই মুখ্য। যার যোগ্যতা যত বেশি তার ফলাফল তত বেশি ভালো হবে।’ জিয়া মহিউদ্দিন নিজের কর্মজীবনে সফল একজন মানুষ, ঠিক একই রকমভাবে পরিবারের সবার কাছেও তিনি খুব আপন হয়ে থাকতে চান। তার বাবা স্থপতি আ.ফ.ম গোলাম মহিউদ্দিন আর মা রিফাত রশীদ ছিলেন শিক্ষিকা। লালামাটিয়ায় এক সুবিশাল বাগান বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা, প্রকৃতির সাথে সখ্যতা তার বেশ। স্ত্রী চিকিত্সক আর একমাত্র সন্তান আরিজ আল হাসান মহিউদ্দিনকে নিয়েই কাটে তার অবসর। একসময় খুব বৃষ্টিতে ভিজতেন, সেই সুখের দিনগুলোকে ভেবেই অন্যরকম এক সুখ অনুভব করেন এখন, এটাই যে স্বর্গীয়। ০ এ কে এম কামরুল আহছান সিনিয়র তথ্য অফিসার পুলিশ হেডকোয়ার্টার একেএম কামরুল আহছান ডাক নাম :ফরহাদ জন্মতারিখ ও স্থান :৯ জানুয়ারি, কুমিল্লা মায়ের নাম :মনোয়ারা বেগম বাবার নাম :মো. সোলাইমান প্রথম স্কুল :উত্তরদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা-বাবা প্রিয় উক্তি :কারও উপকার করতে না পার, ক্ষতি করো না। প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :টিভি দেখে, বই পড়ে, গান শোনে, আড্ডা দিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্যেকে ছকে বাঁধা যায় না। সততা, একাগ্রতা ও পরিশ্রমের সম্মিলনই সাফল্য। বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরে। বাবাই তার অনুপ্রেরণার উত্স। কর্মজীবনের শুরু চট্টগ্রামে গোল পাহাড়ের মোড়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় তথ্য অফিসে। সেই শুরু, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচার, সেমিনার/সিম্পোজিয়াম আয়োজন, সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ, প্রেস রিলিজ লেখা আরও কত কি! চট্টগ্রাম থেকে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ হয়ে নোঙর ফেললেন ঢাকায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপন সেলে। জনসংযোগের দায়িত্বে ছিলনে গৃহায়ন ও গণর্পূত এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। তিনি একেএম কামরুল আহছান, এখন দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে। কামরুল আহছান মনে করনে, পেশা হিসেবে জনসংযোগ অত্যন্ত চমত্কার। তবে অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। নিজেকে মেলে ধরার অবারিত সুযোগ আছে এ পেশায়। প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় নানা সংকট ও সমস্যার। নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার সম্মিলন ঘটিয়ে সংকট উত্তরণে সচেষ্ট হতে হয়। এ পেশায় প্রতিনিয়ত নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে যোগাযোগ ঘটে। ভাবের আদান-প্রদান হয়। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ ঘটে। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তিনি এই কাজ তাই যথষ্টেই উপভোগ করেন। তরুণদের এই পেশায় স্বাগত জানিয়ে কামরুল বলেন, ‘নতুনের জয় সর্বকালে, সবসময়ে। আমাদের দেশের তরুণ জনসংযোগকর্মীদের বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী। তাদের কাজ অত্যন্ত উঁচু মানের। পেশাদারিত্ব আছে। শুধু অভিনিবেশসহ অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্ব থাকলে এ পেশায় সাফল্য ধরা দেবেই। সততার সাথে নিষ্ঠা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব সময় পেশাগত নানা বিষয়ের খোঁজখবর রাখতে হবে। গতানুগতিকতার বাইরে বেরিয়ে পেশাগত উত্কর্ষ সাধন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এ পেশার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। ই-মেইল এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশেষ পরঙ্গমতা অর্জন করতে হবে। সৃজনশীলতার চর্চা করতে হবে। প্রতিটি কাজ করতে হবে আন্তরিকতার সাথে। তবেই সাফল্য ধরা দেবে।’ কামরুলের বেড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত পরিবারে। ছয় ভাইবোনের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রামে। চাকরির কারণে বাবা থাকতেন ঢাকায়। লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি শেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। নিজের সম্পর্কে কামরুল জানালেন, তাদের ভাইবোনের লেখাপড়া, আত্মীয়স্বজনসহ সংসারের সকল বোঝা মা সারাজীবন একাই বয়ে বেড়িয়েছেন। তার মা খুবই শিক্ষানুরাগী ছিলেন। বাবা-মা দুজনেই সব সময় চাইতেন তাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক। স্নেহময়ী মা তাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন আজ বারো বছর। মায়ের কথা মনে পড়ে তার সর্বক্ষণ, তিনি বুঝি আকাশে বসেই সন্তানদের সাফল্যগাথা দেখছেন। গৃহিণী স্ত্রী সাজেদা আক্তার আগলে রাখেন তার পরিবারের সবাইকে। কন্যা তাসমিয়া আহসান অনন্যা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। পুত্র একেএম তাকিউল আহসান তাসীন এখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। স্ত্রী, সন্তান এবং নিঃসঙ্গ বাবাকে নিয়েই তার এখনকার পরিবার। সবশেষে নিজের ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানালেন কামরুল আমাদের, ‘সবার তরে বিলেয়ে দিতে চাই নিজেকে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মিলেমিশে, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে হাসি-তামাশায় থাকতে চাই আপনজনদের সাথে।’ ০০০ মেহনাজ রশীদ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন, বাংলালিংক মেহনাজ রশিদ ডাক নাম :মোহনা জন্মতারিখ ও স্থান :২১ শে আগস্ট, ঢাকা মায়ের নাম :নাসরিন রশীদ বাবার নাম :লে. কর্নেল (অব.) কায়সার রশীদ প্রথম স্কুল :প্লে-পেন কিন্ডারগার্ডেন প্রিয় মানুষ :বাবা-মা প্রিয় উক্তি :Both good and bad make up a person. One should always try to take the good one in everyone. প্রিয় পোশাক :সালোয়ার-কামিজ অবসর কাটে যেভাবে :পরিবার আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায় সাফল্যের সংজ্ঞা :আশপাশের সবাইকে নিয়ে যখন স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটানো যায়। স্কলাস্টিকা থেকে ‘ও’ লেভেল, আর ‘এ’ লেভেল শেষ করেন তিনি। এরপর সুযোগ করে নেন দেশসেরা ব্যবসায় প্রশাসনের বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে। দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীনই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী বিনিয়ম প্রোগ্রামের আওতায় সুযোগ পান সেখানে গিয়ে অধ্যয়নের। অনেক ভেবেচিন্তে সুযোগটা তিনি নেননি, এখানকার পড়াশোনাটাই ঠিকঠাক করতে চেয়েছিলেন। আর সে যাত্রায় তিনি সফল একজন আজ। মেহনাজ রশীদ মোহনার কথা বলছি, অগ্রসরমান মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের পাবলিক রিলেশন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগে কর্মরত তিনি এখন। আইবিএ থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েই এখানে সুযোগ পেয়ে যান তিনি। মেহনাজ রশীদের কাছে তার কাজ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে কাজ করা মূলত জনমানুষের সাথে বাংলালিংকের একটা সম্পর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে।’ আর এ কারণেই একটা জনপ্রিয় অপারেটর হিসেবে প্রতিদিনই নতুন নতুন সুযোগসুবিধা নিয়ে হাজির হন তারা। এই বিষয়গুলো জনগণের কাছে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়াটাই তার মূল উদ্দেশ্য। মেহনাজ মনে করেন, তাদের যোগাযোগ দক্ষতার উপরে ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তাও অনেকাংশে নির্ভর করে। কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? জানতে চাইলে সফল এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলালিংকে কাজের পরিবেশটা দারুণ নিঃসন্দেহে। তবে কাজের বেলায় কিন্তু কোনো ছাড় নেই, নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করা চাই।’ আর ভালো-মন্দ মিলিয়ে তিনি বেশ উপভোগ করেন কাজটা, এটাই তার কাছে বড় কথা। মেহনাজ রশীদ মনে করেন, আমাদের দেশে এখন মিডিয়া কমিউনিকেশনে কাজের অনেক সুযোগ। একটা পণ্যের মার্কেটিংয়ের সাথে এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আর সে কারণেই কোম্পানিগুলোও বেশ মনযোগী এই দিকটাতে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জনসাধারণের সমর্থন অনেক বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। গ্রাহকের সাথে কোম্পানির হূদ্যতার এই দিকটা তৈরি করে দেওয়া তাই অপরিহার্য। এই সময়ের তরুণদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নতুনরা খুব ভালো করছে।’ ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় পড়াশোনার সময়েই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আর কর্মশালা আয়োজনের কারণেই তরুণরা এমন ভালো করছে বলে মনে করেন তিনি। দায়িত্ব জ্ঞান আর দায়বদ্ধতাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেন মেহনাজ। মেহনাজ জানালেন, বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তার বেড়ে ওঠা। শৈশব থেকেই পেয়েছেন দারুণ এক আবহ। বাবা সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় কড়া শাসনের একটা বিষয় ছিল, তবে তিন বোন মিলে আনন্দেই কাটাতেন সেই উচ্ছল দিনগুলো। আর সেই শৈশব থেকেই নিয়মানুবর্তিতার যে শিক্ষা পেয়েছেন, সেটা এখনও মেনে চলার চেষ্টা করেন, এটাও তার সাফল্যের অন্যতম কারণ। মেহনাজ রশীদ এই জগতেই থাকতে চান। মার্কেটিং তথা জনসাধারণের সাথে সম্পর্ক তৈরির এই কাজ দারুণ উপভোগ করেন তিনি। কাজকে যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তার।