পাবলিক রিলেশন বলতে সাধারণ মানুষের সাথে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে সমঝোতা কিংবা সেতু তৈরি করার কাজটি বোঝানো হয়। আর যারা এই কাজের সাথে জড়িত থাকেন তাদের পরিচয়, পাবলিক রিলেশন অফিসার। তারা মূলত জনসাধারণের মধ্যে এ রকম আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। এসব কাজের সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্বের নানা জায়গায় ছড়িয়ে থাকা কিছু মেধাবী তরুণ তরুণী। তাদের কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ড্যা রে ন হে ই টা র
ফোর্বস ম্যাগাজিনের কন্ট্রিবিউটর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে পিআর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি লাইফ ম্যাগাজিনের বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার হেনরির একমাত্র সন্তান। খুব ছোটকাল থেকেই তিনি ব্যবসার দিকটি খুব ভালো বুঝতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ১৬০০ ডলার আয় করেছিলেন ব্যবসা করে। পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তিনি আমেরিকার সেরা পাবলিক রিলেশনস অফিসারদের একজন।
ডে ভি ড গে ই জা র
পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। তার সাফল্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। টেলিভিশনে প্রচার করা হয় তার বিশেষ সাক্ষাত্কার। এ ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেন। আর এসবের কারণ হলো—আমেরিকার সেরা ১০ জন কনিষ্ঠ পিআর-এর তালিকায় তার নাম রয়েছে। তার জীবনে শুরুটা দারিদ্রতায় ভরা হলেও পরিশ্রম ও অধ্যবসায় দিয়ে তিনি সাফল্যকে করায়ত্ত করেছেন। একজন সাধারণ সেলসম্যান থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেও আজ তিনি সেরা পাবলিক রিলেশন অফিসারদের একজন।
রে বে কা ও য়ে ল স
মার্কেটিং অ্যান্ড মিটিয়া মনস্টারস নামের কোম্পানির সহ-উদ্যোক্তা ও বর্তমান সিইও রেবেকা। তিনি ইস্ট এশিয়ার এক ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশনের উপর ডিগ্রি নেন। পরবর্তীতে মাস্টার্সের জন্য আমেরিকাতে আসেন। আমেরিকার ‘কার্নিগ মেলন ইউনিভার্সিটি’ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পড়া শেষ করেন। তিনি বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশনের উপর পড়াশোনা করলেও তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজি ফিল্ডে। ২০০৫ সালে তাকে ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর ঠিক ৪ বছর পরে তিনি আমেরিকা’স বেস্ট পিআর অ্যাওয়ার্ড পান। তরুণ পিআর ক্যাটাগরি থেকে তিনি এই পুরস্কারের জন্য মনোনায়ন পেয়েছিলেন।
র বা র্টো মে য়া র
এইএলটিআই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করছেন। তিনি পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় একটা বড়ধরনের গ্যাপ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। মূলত ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ সময়। তবে একবারেই পড়াশোনা বাদ দেননি। কাজের ফাঁকে ঘরে কিংবা অফিসে বসেও তিনি মার্কেটিং বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি ২০০৪ সালে তার ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন, তার সাবজেক্ট ছিল বিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং। পেশাগত সম্পর্কের মধ্য দিয়েই তিনি পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠানেই ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
সা মা ন্তা স্ক ট
তিনি ২০০৬ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন। তার সাবজেক্ট ছিল, বিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং। প্রথমে বন্ধুদের সাথে মিলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখানে তিনি ব্যর্থ হন। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন। ছোট একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে তার পেশাগত জীবনের সূচনা ঘটে। তিনি নিজের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো তার কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছিলেন। আর এখানেই তিনি সাফল্যের দেখা পান। সেই প্রতিষ্ঠানটি তার প্রত্যক্ষ ভূমিকার কারণে রাতারাতি বড় একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। এ সময় তার কাছে আরও নানা চাকরির অফার এলেও তিনি তা ফিরেয়ে দেন। বিনিময়ে সেই ছোট প্রতিষ্ঠানটি তাকে তাদের একটি শেয়ার দিয়ে দেয়। আজ তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানেই কাজ করছেন।
