সেই ছোটবেলা থেকেই সবাই স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে ভালো কোনো পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার। এই স্বপ্নে মা-বাবাও মগ্ন থাকেন। সন্তানের স্বপ্নের সারথী হতে মা-বাবাও সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এদিক দিয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল সেলিমের। তার মা-বাবারও স্বপ্ন ছিল, ছেলে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। আর এদিক দিয়ে উড়োজাহাজের প্রকৌশলী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল তার। এক্ষেত্রে এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার মানে উড়োজাহাজ প্রকৌশলী তা সেলিমের আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল। এরপর কীভাবে কখন এই ডিগ্রি অর্জন করতে হয় সেটি জেনেছেন, অনেক পরে এসে। অবশ্য প্রথম দিকে তার ধারণা ছিল এ ধরনের ডিগ্রি অর্জন করতে হলে বিদেশে যেতে হয়। যে কারণে এইচএসসি পাস করে বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সেলিম ও তার বাবা-মা। এরই মধ্যে তারা জানতে পারেন নিজ দেশ থেকেই এ ধরনের ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ আছে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে সেলিম আয়ারল্যান্ডের শ্যানন অ্যারোস্পেসে কাজ করছেন। এখান থেকে এএমই লাইসেন্স পাওয়ার পর চাকরির শুরুতেই তার বেতন হবে দু’হাজার ইউরো। এখন তার কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। সেলিমের সাথে কথা হয় তার এই সাফল্য অর্জনের প্রেক্ষাপট নিয়ে। লিখেছেন জাকির এইচ. তালুকদার
সেলিম তার শুরুর গল্পটা শোনান এইভাবে, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। অবশ্য আমার বাবা-মায়েরও ইচ্ছা ছিল আমি যেন বড় ইঞ্জিনিয়ার হই। আর এদিক দিয়ে সবার ধারণা অ্যারাস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে যথেষ্ঠ বড় এবং গর্ব করে উল্লেখ করার মতো একটি পেশা। আমারও মনে এক ধরনের জিদ এবং একাগ্রতা ছিল, ভালো ও ব্যতিক্রমী কোনো বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং শেখার। বলা যায়, আগে থেকে এই পেশায় আসার প্রস্ততি ছিল আমার। এরপর এইচএসসি পাস করে এই ডিগ্রি কোথায় সম্পন্ন করব সে বিষয়ে খোঁজ নিতে শুরু করি। আমাদের একধরনের দৃঢ় বিশ্বাসই ছিল যে, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং করতে বিদেশে যেতে হবে। এটি আমাদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছিল। এরপর জানতে পারলাম উত্তরায় এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে এই বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। সেখানে গিয়ে দেখলাম তাদের পরিচালনা করা ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এবং এখান থেকে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে থিউরিটিক্যাল করে প্রাকটিক্যাল করতে চলে এলাম আয়ারল্যান্ডে। আমার ভিসা পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। আর আজ আমি এখানে ভালো আয় করছি।’
এরপর সেলিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সব শিক্ষার্থীর কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় সুযোগ পেলে বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করবে কি না। আমার বিশ্বাস সবাই হ্যাঁ বলবে। আর আমাদের দেশের লেখাপড়ার মান, এরপর চাকরি সমস্যা, জীবন যাত্রার মান সব মিলে এক কঠিন জীবন যুদ্ধ। এ কারণে শিক্ষার জন্য বিদেশে আসা মানে ক্যারিয়ার নিশ্চিত হয়ে যাওয়া। আমি এখন আয়ারল্যান্ডে পড়ছি মানে এরপর ভালো স্যালারিতে চাকরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। আর উন্নত জীবন মান, উজ্জল ভবিষ্যত্ গড়ে তোলার অপূর্ব সুযোগ পাওয়া গেছে—এটি বাড়িয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। এক কথায় এ এক অসাধারণ স্বপ্ন পূরণের সিঁড়িতে পা রাখা।’ এরপর তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বর্তমান যুগে নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ তারা যেন এমন ডিগ্রি অর্জন করার জন্য পরিকল্পনা নেয় যার বিশ্ব জুড়ে চাহিদা রয়েছে এবং ডিগ্রি অর্জন করার সাথে উচ্চ আয়ের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে।’
